শ্রমবাজার সংস্কারে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার

কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি উল্টো বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বিএনপি সরকারের ওপর

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে গিয়ে নানা হয়রানি, নির্যাতন ও অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই সঙ্গে নতুন ও পুরনো শ্রমবাজারকে ঘিরে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার বিষয়েও বড় ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব অনিয়মের সঙ্গে অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাই প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিদেশগমনেচ্ছুদের প্রত্যাশা ছিল, এ খাতে সংস্কারের পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। বাস্তবে যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বন্ধ শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। উল্টো প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতিতে বাংলাদেশের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করে। ফলে শ্রমবাজার আরো সংকুচিত হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ যাচাই না করে নতুন করে দফায় দফায় মোট ২৮২টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স অনুমোদন দেয়া হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একসময় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য, উপসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে কর্মীদের হয়রানি, নারী কর্মীদের নির্যাতন ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে সেই বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে বর্তমানে সৌদি আরবকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। বিএনপি সরকারকে এখন অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় নানা জটিলতায় পড়তে হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপড়েনের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজারগুলো পুনরুদ্ধার করাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দেশটি সফরও করেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি লোক নেবে মালয়েশিয়া। যদিও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো দেশটির সরকার কর্মী নিতে ১০টি কঠিন শর্ত আরোপ করে বসে।

রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমবাজারে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের হয়রানির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রবাসীদের ৪ হাজার ৭০৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পন্ন অভিযোগের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৫৪, যা মোট অভিযোগের ৪৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ অভিযোগই বছর শেষে অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজার সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারেনি। নির্বাচিত সরকারকে একটি গভীর ও সমন্বিত ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন’ নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারে যে স্থবিরতা, অনিয়ম ও নীতিগত দুর্বলতা রয়েছে, তা কঠোরভাবে কমিয়ে এনে কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, অনিয়মে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সেক্টর থেকে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। সঠিক নীতি ও বাস্তবায়ন হলে রেমিট্যান্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রবাসী খাতকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোতে হবে। তাৎক্ষণিক ঘোষণা নয়, ধারাবাহিক সংস্কারই এ খাতকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে অভিবাসন খাত থেকে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা তাসনিম সিদ্দিকী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, প্রবাসী খাতকে নতুন সরকার কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে পারে না। অতীতের মতো শুধু মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে দায়সারা কাজ করলে চলবে না। নতুন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত পুরো সেক্টরকে স্ট্রিমলাইন করা। রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, অনিয়মে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। জনশক্তি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএমইটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তর করে এর অধীনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়তে হবে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০২৫ সালে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। একই বছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। জনশক্তি রফতানি খাতে ভারতে রিক্রুটিং এজেন্সি আছে ১ হাজার ৯৮৮টি। অন্যদিকে বিএমইটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৬৭৬। নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সিসহ এ সংখ্যা বর্তমানে প্রায় তিন হাজার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া সরকার যে ১০টি শর্ত দিয়েছে তা দেশের কোনো এজেন্সির পক্ষেই মানা সম্ভব না। সিন্ডিকেট চক্রের জন্যই এটি করা হয়েছে। ৪০০ এজেন্সি ভুয়া কাগজপত্র অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছে আর সেগুলো কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মালয়েশিয়া সরকারকে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারিভাবে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কর্মী গমনে একসময় দ্বিতীয় শীর্ষ শ্রমবাজার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ বাজারেও দুই বছর ধরে কর্মী যাওয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে দেশটিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভে অংশ নিলে কর্মী ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার সম্ভাবনাময় এ বাজার পুনরায় চালু করতে পারেনি। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে ওমান, বাহরাইন, লিবিয়া, সুদান, মিসর ও রোমানিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে।

বৈধ পথে সুযোগ সংকীর্ণ হওয়ায় বেড়েছে অবৈধ পথে অভিবাসন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্সের (ডিটিএম) তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ইউরোপ প্রবেশে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর ২০ হাজার ৪৬২ জন বাংলাদেশী প্রচলিত পথের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন, যাদের অনেকেই মানব পাচারের শিকার হয়েছেন।

এসবের অনেকটা প্রভাব পড়েছে বিদেশে থাকা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ওপরও। যুক্তরাজ্যের একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে।

শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী প্রেরণে দীর্ঘ সময় বড় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি আওয়ামী লীগ সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও আদোতে শ্রমবাজারে এসব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ নেয়া যায়নি। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া সমালোচিত নানা প্রকল্প এগিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প আদৌ প্রবাসগমনেচ্ছু কর্মীদের কোনো উপকারে আসবে কিনা বা কার্যকর কোনো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো ধরনের অনুসন্ধান ও তৎপরতা দেখা যায়নি।

দেশের ৪০ উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। স্থানীয় ও বিদেশী শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা এ প্রকল্পের অন্যতম একটি লক্ষ্য। তবে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ টিটিসি লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশ প্রশিক্ষণও দিতে পারেনি বিএমইটি।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বিরাজমান সিন্ডিকেট ও প্রতারণা বন্ধে এবং জনশক্তি রফতানির সব বাধা দূর করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে। এছাড়া প্রবাসী কার্ড, ওভারসিজ স্কিলস ইনভেস্টমেন্ট পার্ক, ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন, দক্ষ কর্মীদের ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি, মাইগ্রেশন মার্কেট রিসার্চ ইনস্টিটিউট গঠনসহ একাধিক উদ্যাগের কথা বলা হয়েছে।

দেশের শ্রমবাজার সংস্কারসহ সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। প্রথম কাজ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা ভালোভাবে বোঝা এবং কোথায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে তা চিহ্নিত করে কাজের পরিবেশ তৈরি করা। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার সংকটকালে দায়িত্ব পালন করেছে, তারা যতটুকু পেরেছে আন্তরিকভাবে করার চেষ্টা করেছে। এখন কোন খাতে কতটুকু অগ্রগতি বা ঘাটতি আছে, সেটি আমরা কাজ শুরু করলেই স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করতে পারব। রিক্রুটিং লাইসেন্স, অভিবাসন ব্যয় কমানো, বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা কিংবা বিএমইটির জটিলতা—এসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে শ্রমবাজার কিছুটা সংকুচিত হলেও একটি জনবহুল দেশ হিসেবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানো। বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি—নার্স, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে পারলে আমরা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব। একই সঙ্গে দেশে ও প্রবাসে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’

বিএমইটির তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ বাংলাদেশী, যার ৬৬ দশমিক ৭২ শতাংশ গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে, যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭১ জন। এছাড়া সিঙ্গাপুর ৭০ হাজার ১৮২, কুয়েত ৪২ হাজার ৭৩৫ ও মালদ্বীপে ৪০ হাজার ১৫৯ জন গেছেন। ইউএই ১৩ হাজার ৭৫২, জর্ডান ১২ হাজার ৩০১ ও কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৬২ কর্মী গেছেন।

দেড়-দুই বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো সম্প্রসারণ বা নতুন বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি শ্রমবাজার সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছিল না বলে মনে করেন বিদেশে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক। প্রবাসী সেক্টর নানা চাপে ছিল এবং এখনো রয়েছে। বর্তমান সরকার যেহেতু একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, আমরা আশা করি তারা প্রবাসী খাতকে অগ্রাধিকার দেবে। এরই মধ্যে সরকার এ খাতকে ফোকাস পয়েন্টে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে—এটি ইতিবাচক দিক। তবে শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ এখন জরুরি। বিশেষ করে যেসব শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত খোলার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক মন্দা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী আয়ের এ প্রবৃদ্ধি রিজার্ভ ধরে রাখতে হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংস্কার এবং টেকসই ও দক্ষতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আরও