একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে উচ্চতর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালে অনিয়মের অভিযোগে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে হাবিবা জেসমিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক সালমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ছুটিতে থাকা এবং ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে অবস্থানের অভিযোগ ছিল। আর সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে সুপারভাইজার ও চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় দুজনের বিরুদ্ধেই চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
এদিকে ২০২৪ সালে ৫৩১তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসক ডা. রাজু আহমেদের চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। পরে এ ঘটনায় মামলাও হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি তদন্তে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।’