সেশনজট নিরসন, সময়মতো ফল প্রকাশ ও একাডেমিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সামনে তালা ঝুলিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিভাগের কয়েকটি কক্ষে তালা দিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট, সময়মতো ফল প্রকাশ না হওয়া এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় আজ তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন বলেন, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর কার্যক্রম ব্যাহত হলেও ২০২৪ সালের মধ্যেই অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেশনজটের কারণে তা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে।
তিনি জানান, ফল প্রকাশের পর প্রায় ৫ মাস ধরে মাস্টার্সের কোনো ক্লাস, পরীক্ষা বা রুটিন দেয়া হয়নি। বিভাগের পক্ষ থেকে কারিকুলাম প্রস্তুত না থাকার কথা বলা হলেও এতদিনেও কেন সেটি তৈরি করা হয়নি, সে প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে ৬ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকা একটি সেমিস্টার ৯ মাস পেরিয়েও শেষ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। তবে এর পেছনে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও রয়েছে। তিনি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মানবিক বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের স্থায়ী সমাধান দাবি করেন। তিনি জানান, এসব দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি কাজি রবিউল আলম বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের নিচে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নন। সেই নিয়ম অনুসারেই বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, আজ পরীক্ষার শুরুর কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন, যাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে না, তাদের সুযোগ না দিলে তারাও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ এ বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। আর এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।