সর্বস্তরে আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণ সবারই যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সব আর্থিক খাতের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করে তোলা, বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক বাজার উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক সেবা সহজলভ্য করতে হবে।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত পঞ্চম ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট ২০২৪’-এর ‘আর্থিক খাতের রূপান্তর-সীমাবদ্ধতার সাথে প্রগতি’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও নতুন শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার তিন দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করে। সামিটের গণমাধ্যম সহযোগী বণিক বার্তা।
গতকাল সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএমএম মাকসুদ কামাল। উপস্থিত ছিলেন ঢাবি অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন ও ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের মডারেটর অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, সভাপতি ফারহা তাসনীম ও সাধারণ সম্পাদক আবরার আহম্মদ ভূঁইয়া। এ সময় ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের প্রকাশনা ‘সেটেরিস প্যারিবাস’ ও ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ডাইজেস্ট অন ইকোনমিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএসডিইডি)’ নামক দুটি জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিআরডি) আর্থিক অন্তর্ভুক্তীকরণ বিশেষজ্ঞ ড. লীলা রশিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা—ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার, বন্ড ও বীমা সেক্টরের দুর্বলতা, প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক খাতে আমাদের অপ্রতুল অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে ড. আহসান মনসুর বলেন, ‘শেয়ারবাজার বাংলাদেশ অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভ হলেও জনগণের কাছে তা সর্বজনীন হয়নি।’
ভারতের সঙ্গে তুলনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এ অনগ্রগতির জন্য তিনি কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেন, যার মধ্যে শেয়ারবাজারের সীমিত বিকাশ, সরকারি ও করপোরেট বন্ডবাজারের গভীরতা ও স্বচ্ছতার অভাব এবং জনগণের বিশ্বাসের অভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বীমা খাতে সম্ভাব্য বিকাশ ব্যাহত হওয়াকে গণ্য করেন। সমাধানের ক্ষেত্রে করণীয় হিসেবে তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নীতকরণ, বন্ডবাজার পুনর্গঠন, ঋণের চক্রীয় প্রকৃতি চিহ্নিতকরণসহ নানা বিষয়ে জোর আরোপ করেন।
ড. কান্তি কুমার সাহা বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরের ব্যাংকগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা এনপিএল (নন পারফর্মিং লোন), নতুন প্রযুক্তি, যেমন এআই, ডাটা সায়েন্স ও কাগজবিহীন ব্যাংকিং বাস্তবায়নে উচ্চ খরচ, ডাটা অপ্রতুলতা ও ডাটা মাইনিং ইস্যু ও বন্ডবাজারের অস্থিতিশীলতা। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীরা কীভাবে ঋণ, আমানত ও বীমা প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে খরচ ও সময় কমিয়ে আর্থিক খাতের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে পারে সেই ব্যাপারে কাজ করতে হবে।’
এরপর ‘প্রগতিতে সমতা ও নৈতিকতা: নৈতিক ধারণার দিক নির্ধারক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের ডিরেক্টর ড. মুন্সী সোলায়মান ও উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ আছিয়া নীলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
এ সময় বক্তারা প্রান্তিক অঞ্চলে সমতার ব্যবধান পূরণে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের পক্ষে কথা বলেন, দক্ষতার সঙ্গে সম্পদ বণ্টনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ন্যায়সংগত ও নৈতিক অগ্রগতি অর্জনে সুশাসনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।