বান্দরবানে সড়ক ও নৌপথে পণ্যবাহী যান ও নৌকাগুলো থেকে অনুমোদিত ২০টি পয়েন্ট থেকে টোল আদায় করা হয়। টোল পয়েন্টগুলো পরিচালিত হয় পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে। প্রতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য টোল পয়েন্টগুলো ইজারা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে রফতানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যে টোলের হারও নির্ধারণও করে দেয়। তবে নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এছাড়া অননুমোদিত আরো তিনটি পয়েন্টে নেয়া হচ্ছে টোল। ফলে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাড়তি দামের খড়গ চাপছে ভোক্তাদের ওপর।
জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছে, জমা দেয়ার সময় ফুরিয়ে গেলে নিলামের পুরো টাকা পরিশোধ বা জমা করছেন না একাধিক ইজারাদার। অনুমোদিত পয়েন্টের নির্ধারিত স্থান ছেড়ে অন্যত্রও টোল আদায় করা হচ্ছে।
টোল পয়েন্টগুলোর নিলাম থেকে প্রাপ্ত টাকা জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্ধারিত হারে বণ্টনের বিধান রয়েছে। তবে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বণ্টনের টাকা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ খোদ উপজেলা প্রশাসনের। একই অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও। তারা বলছেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টোলের টাকার অংশ ইউনিয়ন পরিষদ তহবিলে জমা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাইচতলীর অননুমোদিত টোল পয়েন্টে থাকা টোল আদায় রশিদ বইয়ের ১০৫ নম্বর পাতার কার্বন কপিতে উল্লেখ রয়েছে, ১২ জুলাই একটি গাড়ি আম পরিবহন বাবদ টোল আদায় করা হয় ৬০০ টাকা। তবে কলা, আনারস, কাঁঠাল প্রভৃতি ফল পরিবহন করা প্রতি বড় ট্রাক থেকে ৩০০ ও মিনি ট্রাক থেকে ১৫০ টাকা আদায় করার নির্দেশনা রয়েছে জেলা পরিষদের।
জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, টোল পয়েন্টে বাড়তি টাকা নেয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যার ভার পড়ে ভোক্তাদের ওপর।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহেদসহ তিনজন মিলে ১৫ লাখ টাকায় উপ-ইজারা নিয়ে কাইচতলীর টোল পয়েন্ট পরিচালনা করেছন। জানতে চাইলে মো. শাহেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাসুম, আরিফ ও সাইফুল সুয়ালকে বসানো টোল পয়েন্টের ইজারাদার।’ কাইচতলী টোল পয়েন্টটিও সুয়ালক টোল পয়েন্টের অংশ বলে দাবি তার। এছাড়া অননুমোদিত অন্য পয়েন্টগুলো হলো টংকাবতী ইউনিয়নের আলীনগর ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের হাসপাতাল সংলগ্ন টোল পয়েন্ট। এটি পরিচালনা করছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আবু সুফিয়ান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি।
দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইমরান বলেন, ‘জেলা পরিষদ অনুমোদিত তুলাতলী টোল পয়েন্ট থেকে মাত্র চার কিলোমিটার ব্যবধানে অননুমোদিত এ পয়েন্টটি বসানো হয়েছে। বাড়তি টোল আদায়ের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’
এদিকে রোয়াজাপাড়া হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর সংযোগ সড়কের শেষ সীমানা পর্যন্ত কোনো টোল পয়েন্ট নেই বলে জানিয়েছেন ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ওই সড়কটিতে টোল পয়েন্ট না থাকায় ফাইতং ইউনিয়নের পাগলীছড়া এলাকার পাঁচটি ইটভাটাসহ অন্যান্য এলাকায় উৎপাদিত পণ্য টোল ছাড়াই জেলার বাইরে সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সরকার প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।’
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী নিলাম দরপত্র খোলার দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নিলামের টাকা জমা করতে হয়। তবে নির্ধারিত সময় ফুরিয়ে গেলেও ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করেননি সুয়ালক ইউনিয়নের হলুদিয়া সংলগ্ন টোল পয়েন্টের ইজারাদার উহাইনু মারমা।
জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে টোল পয়েন্টটি ইজারা নিয়েছে আবুল খায়ের টোব্যাকোর এজেন্ট আবুল কালাম আজাদ। বিস্তারিত আমার জানা নেই।’
জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের প্রাপ্য অংশ শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের তহবিলে জমা করা হবে। ওই টাকা থেকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অংশ জমা করবে প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ। অননুমোদিত টোল পয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।’