সারা দেশে ফোরজি ও থ্রিজি পরিষেবা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক খাবার অর্ডার ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের সেবা। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেলিভারি কর্মীরা।
অনলাইন মাধ্যমে যারা খাবার অর্ডার করে থাকেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই সকালে নাস্তার জন্য খাবার অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু তারা খাবার ডেলিভারি পাননি। এমনকি কয়েকজনের অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুপুরের খাবার অর্ডার করেও এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকেই। এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা হলে বণিক বার্তাকে তিনি জানান, জুমার নামাজের পর একটি অনলাইনভিত্তিক খাবার ডেলিভারি সেবা প্রতিষ্ঠানে দুপুরের খাবার অর্ডার করেন তিনি । ১৫ মিনিট পর অর্ডারটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে খাবার অর্ডার করেন, সেটিও বাতিল হয়ে যায়।
রাজধানীর গ্রিনরোড, পান্থপথ, ফার্মগেট এলাকার কয়েকটি খাবারের হোটেল ও ফাস্টফুডের স্বত্ত্বাধিকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে তারা অনলাইনে খাবারের অর্ডার পাচ্ছেন না। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের কারণে ডেলিভারি ম্যানদের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় তারা গ্রাহকের কাছে খাবার পৌঁছাতে পারছেন না।
রাজধানীতে প্রচুর মানুষ ফুড ডেলিভারির কাজ করে থাকেন। সকাল থেকে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে। সাইফুল্লাহ নামে এক ফুড ডেলিভারি ম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে তিনি খাবারের কোনো অর্ডার পাচ্ছেন না। আবার যেখানে তিনি ওয়াইফাই সংযোগ পাচ্ছেন, সেখানে গেলে দুয়েকটি অর্ডার পেয়েছেন। কিন্তু, এভাবে সারাদিনে তার যা ইনকাম টার্গেট; তা পূরণ হচ্ছে না। এদিকে, যারা শুধু এই পেশায় নিয়োজিত, তাদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
এদিকে, কারিগরি ত্রুটির কারণে সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, হয়তো কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেটা এড়ানো যায়নি। এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, গ্রাহকদের বেশি সময় এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলেও জানান তিনি।
গ্রামীণ ফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন মুহাম্মদ হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, অনিবার্য কারণবশত ফোরজি ও থ্রিজি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফোরজি ও থ্রিজি সেবা ফিরিয়ে আনতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে গ্রামীন ফোন কর্তৃপক্ষ।