১৫৮ জন পাচ্ছেন আর্থিক অনুদান

মধ্যপ্রাচ্যে করোনায় মারা গেছেন চট্টগ্রামের ২ শতাধিক প্রবাসী

মধ্যপ্রাচ্যে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের দুই শতাধিক প্রবাসী। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা যাওয়া প্রবাসীদের মধ্যে ১৫৮ জনকে সরকারিভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (বিএমইটি)।

মধ্যপ্রাচ্যে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের দুই শতাধিক প্রবাসী। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা যাওয়া প্রবাসীদের মধ্যে ১৫৮ জনকে সরকারিভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (বিএমইটি)। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মৃত্যু সনদ ও এনওসি পরীক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে যাচাই সাপেক্ষে ভুক্তভোগী এসব প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন সৌদি আরবে। সেখানে চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ মারা গেছেন ৬৮ জন। এছাড়া ওমানে ৩৩ জন, দুবাইয়ে ১৯, আবুধাবিতে ২৮, কুয়েতে ৩, কাতারে ৪ ও বাহরাইনে ৩ জন মারা গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও এসব প্রবাসীর মরদেহ বাংলাদেশে আনতে পারেনি স্বজনরা। কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই দাফন করা হয় প্রবাসীদের। নিয়ম অনুযায়ী, সেখানকার হাসপাতাল থেকে দেয়া সনদ, বাংলাদেশ দূতাবাসের সনদ ও পাসপোর্টসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে মৃত এসব প্রবাসীকে ৩ লাখ টাকা করে প্রণোদনা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে মোট ১৫৮ জন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী কর্মীর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারীতে মৃত চট্টগ্রামের ১৫৮ প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুজনিত আর্থিক অনুদান দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএমইটির মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় কার্যালয়। এছাড়া করোনায় প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা বিএমইটি কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ অনুদানের জন্য আবেদন অব্যাহত রেখেছেন। আর্থিক অনুদানের নিবন্ধন ছাড়াও অনুদান নিতে অনাগ্রহী মৃত কর্মীও রয়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রবাসীর সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিএমইটি কর্তৃপক্ষ।

বিএমইটি তথ্যে দেখা গেছে, কভিড-১৯-এ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী মারা গেছেন হাটহাজারী উপজেলার (২৬ জন)। দ্বিতীয় অবস্থানে ফটিকছড়ি উপজেলার (২১ জন)। এছাড়া রাউজানের ১৬ জন, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়ার ১৩ জন করে, চট্টগ্রাম মহানগরী ও লোহাগাড়ায় ১০ জন করে, বোয়ালখালীর আটজন, পটিয়ার আটজন, মিরসরাই ও চন্দনাইশের সাতজন করে, আনোয়ারার ছয়জন, বাঁশখালীর পাঁচজন, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের তিনজন করে এবং কর্ণফুলী উপজেলার দুজন মধ্যপ্রাচ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার বিভিন্ন দেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ১৫৮ জন প্রবাসীর পরিবারকে সরকার ঘোষিত ৩ লাখ আর্থিক সহায়তা দিতে বিএমইটির মহাপরিচালককে সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী এসব প্রবাসী পরিবার সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আরো বেশকিছু আবেদন আমাদের কাছে জমা পড়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরও সহায়তা প্রদান করতে কাজ করছে বিএমইটি।

আরও