ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়লেও ইঞ্জিন বিকল ও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অধিকাংশ ট্রেনই দীর্ঘ বিলম্বে ছেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। আজ শনিবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এ চিত্র দেখা যায়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্যমতে, ঈদের ছুটির শেষদিন হওয়ায় শনিবার যাত্রীর চাপ ছিল বেশি। তবে কয়েকদিন আগে চট্টলা এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডসহ একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনার পর থেকেই ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে সাপ্তাহিক বন্ধ ব্যতীত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। এর প্রভাবে ঈদের পর প্রায় সব ট্রেনই দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেও দেরি করেই।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ জানায়, শুক্রবার বিজয় এক্সপ্রেস প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। এর প্রভাবে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস চার ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে ইঞ্জিন বিকলের কারণে বিকল্প ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি হওয়ায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামমুখী উদয়ন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর পৌঁছায়। ফলে শনিবার সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আট ঘণ্টা ৩০ মিনিট বিলম্বে চট্টগ্রাম ছাড়ে।
একই অবস্থা কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। আংশিক বিরতিযুক্ত এ ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে আরো দেরি হয়। নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টায় ঢাকা উদ্দেশে ছাড়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিন জটিলতায় ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টার পর চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
এদিকে লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার কারণে বিরতিহীন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের ৫৩ মিনিট পর ছেড়ে যায়। ইঞ্জিন পরিবর্তনের তথ্য যথাসময়ে পরিবহন বিভাগকে না জানানোয় বিলম্ব আরো বাড়ে। পরে বিকল্প ইঞ্জিন সংযোজনের পর ট্রেনটি বিকাল ৫টার পরিবর্তে ৫টা ৫৩ মিনিটে চট্টগ্রাম ছাড়ে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিচালন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ইঞ্জিন বিকলসহ নানা কারণে অনেকগুলো ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়নি। ঈদের পর শেষ বিশেষ ট্রেন সার্ভিস হওয়ায় সংকটের মধ্যেও যথাসম্ভব ভালো সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করেছে রেলওয়ে। শনিবারের পর যাত্রী কমে গেলে রেলওয়ের সংকটগুলো অনেকাংশে কেটে যাবে বলে আশা করেন তিনি।