চাঁদপুরে হচ্ছে আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে চাঁদপুর মাছঘাটে কেন্দ্রটি হতে যাচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চাঁদপুরে আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী স্বাক্ষরিত এক পত্রে অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রস্তাব করেন জেলা প্রশাসক। প্রস্তাবটি সম্মেলনের মধ্যমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে গৃহীত হয়। ৪০ শতক জমিতে ৩ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ইলিশ মাছ অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে চাঁদপুর মাছঘাটে কেন্দ্রটি হতে যাচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে চাঁদপুরের ইলিশসহ সব ধরনের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধার সৃষ্টি হবে।

মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দিলদার আহমদ প্রস্তাবিত স্থানটি এরই মধ্যে ঘুরে গেছেন। প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে যেখানে এখন মাছঘাট রয়েছে সেখানেই এই বহুতল ভবনের অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। চারতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এই অবতরণ কেন্দ্রে একটি আধুনিক হিমাগার, কোল্ডস্টোরেজ, বরফকল ও মাছ আনা-নেওয়ার জন্য দুটি লরি থাকবে।

এই আধুনিক ইলিশ মাছ অবতরণ কেন্দ্রে আধুনিক বরফকল, নিলামশেড, আড়তঘর, মিনি ডকইয়ার্ড, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার, পন্টুনের পাশাপাশি মাছ হিমায়িতকরণ ও প্যাকেজিং এর আধুনিক সুযোগ সুবিধা, মৎস্য জাদুঘর, মৎস্য ভিত্তিক করপোরেট অফিস স্পেস, ব্যাংক এবং রেস্তোঁরার সুবিধা থাকবে। এটিকে ঘিরে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলার প্রায় এক কোটি মানুষ বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের জীবন যাত্রার আমুল পরিবর্তন হবে। এছাড়া ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশ প্রেমি পর্যটকদের জন্য অপার সম্ভাবনার উপযুক্ত হবে।

২০১৭ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে একটি আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মৎস্য হিমাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভূমির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ে থাকার কারণে বিএফডিসি কর্তৃক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মৎস্য হিমাগার স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর পর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রকল্পটি আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে চলতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রস্তাব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

চাঁদপুরের প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইলিশ আহরণ ও বিক্রির সঙ্গে আমি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে জড়িত। জেলার ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি একই নিয়মে চলে আসছে। আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হলে জেলাসহ উপকূলীয় জেলার সব মৎস্যজীবীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

চাঁদপুরের প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল রুশদি জানান, চাঁদপুর ইলিশ ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে খ্যাত। কিন্তু এত বছর পার হলেও জেলাতে ইলিশ রক্ষণাবেক্ষণ বা ইলিশের আমাদানি-রফতানির জন্য ছিলো না কোনো আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সেই ইলিশ অবতরণ কেন্দ্রের প্রস্তাব করেন বর্তমান ডিসি। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মানিক জমাদার জানান, সরকারিভাবে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ খুবই চমৎকার। এটি বাস্তবায়ন হলে শুধুমাত্র দেশেরই নয়, বিদেশি পর্যটকরাও এখানে আসবে। একই সঙ্গে সংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকদের আগমণ ঘটবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, আমি চাই ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশ সংরক্ষণ বা ইলিশের আমদানি-রফতানি সঠিকভাবে হোক। কেউ চাঁদপুরে এসে ইলিশ নিয়ে যেন প্রতারিত না হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা ইলিশের স্বাদ গ্রহণের ভালো সুযোগ-সুবিধা পাবে।

তিনি আরো বলেন, এ বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আমার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করি, সরকার এ জেলার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই কার্যক্রম সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করবেন।

আরও