ধানী গোল্ড হাইব্রিড বীজ

কুষ্টিয়ায় অধিক ফলনের কথা বলে বিক্রি করা হলেও ৪০ শতাংশ বীজে চারাই গজায়নি

অধিক ফলনের কথা বলে কুষ্টিয়ায় কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ধানী গোল্ড হাইব্রিড জাতের ধান বীজ।

অধিক ফলনের কথা বলে কুষ্টিয়ায় কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ধানী গোল্ড হাইব্রিড জাতের ধান বীজ। জেলার ছয়টি উপজেলার অনেকেই বায়ার কোম্পানির এ বীজ বপন করেছেন। তবে বপন করা বীজের ৩০-৪০ শতাংশ চারাই গজায়নি। অল্প কিছু চারা গজালেও তা রুগ্‌ণ। এসব চারা থেকে ভালো ফলনের আশাও কম বলে জানিয়েছেন কৃষক। এ ঘটনার পর থেকে বীজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন দোকানিরা।

তবে বীজ উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলছেন, এবার অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হয়তো চারা গজায়নি। ভুক্তভোগীদের কেউ অভিযোগ দিলে তাদের সমপরিমাণ বীজ আবারো দেয়া হবে।

কুষ্টিয়া কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় থাকা কুষ্টিয়া জেলা ধান ও চাল উৎপাদনে দেশে অন্যতম। চলতি আমন মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমি ধান চাষের আওতায় রয়েছে। এজন্য জেলায় ধানবীজের বিপুল চাহিদাও রয়েছে। প্রায় ১৬টি জাতে ধানবীজ দুটি মৌসুমে বিক্রি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, বায়ার কোম্পানির ধানবীজের ধরন ছিল তিনটি। এগুলো হলো হাইব্রিড অ্যারাইজড এজেড ৬৪৫৩ এসটি, আইএনইচ ১৬০১৯ এবং ৭০০৯ অ্যারাইজড ধানী গোল্ড। কুষ্টিয়ায় ৭০০৯ অ্যারাইজড ধানী গোল্ড ব্র্যান্ডটি প্রচুর বিক্রি হয়। কুষ্টিয়া কলেজ মোড়ে রয়েছে বীজ বিক্রয়ের প্রধান কেন্দ্র। ধানী গোল্ড ধানবীজ প্রতি কেজির দাম ৪৩৫ টাকা। জেলার ছয়টি উপজেলাতেই বীজ বিক্রি হয়েছে।

মিরপুর উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা মতিউর রহমান লাল্টু ২০ কেজি ধানী গোল্ড বীজ কিনেছিলেন। তার বপনকৃত বীজের প্রায় ৩০ শতাংশ চারা হয়নি। যে চারাগুলো গজিয়েছে সেগুলোও খুব দুর্বল।

প্রায় ১০ বিঘা জমির মালিক এ কৃষক জানান, বীজ বপন করে তিনি বিপদে পড়েছেন। কারণ ধান চারা রোপণের সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। যদি নতুন করে চারা ক্রয় করতে হয়, তাহলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সদর উপজেলার বাঁধবাজার এলাকার বীজ ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস সালেহ জানান, কোম্পানির এজেন্টদের মাধ্যমেই তিনি বীজ তার দোকানে তুলেছিলেন। কিন্তু প্রায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। অনেক কৃষক তার কাছে এসে অভিযোগ করেছেন। তিনি নিজে মাঠে গিয়ে বিষয়টি দেখেছেন। সত্যতাও পেয়েছেন।

একই এলাকার কৃষক আসকারী জানান, এ জাতের বীজে ১৫ দিনের মধ্যে জাগ থেকে তুলে বপন করার নিয়ম রয়েছে। তিনি তাই-ই করেছেন। কিন্তু জমিতে বপনের পর আরো ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি দেখতে পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। তার ধারণা, ধানবীজ নষ্ট ছিল।

কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, ১৫ দিন আগে কুষ্টিয়া কলেজ মোড় থেকে ধানী গোল্ড বীজ কিনেছেন। অর্ধেক বীজ থেকে চারা হয়েছে। বাকিটা নষ্ট হয়ে গেছে। কোম্পানির নির্দেশনা মেনে প্রথমে পানিতে ধানবীজ ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পানি থেকে তুলে চারা গজানোর জন্য জাগ দেয়া হয়। এসব নিয়ম মেনেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম কুমার শীল জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। আগামীকাল তিনি সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে এখনো কোনো কৃষক অভিযোগ করেননি। সব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে।’

জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মনির জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। আগামীকাল ওই বীজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বায়ার কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দিলে ক্রয়ের সমপরিমাণ বীজ আবারো দেয়া হবে।

আরও