সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের
একটি ঘর
প্রধানমন্ত্রীর উপহার
হিসেবে পেয়েছিলেন
কুষ্টিয়ার খোকসা
উপজেলার হারুন
অর রশিদ
(৭৫)। ভূমিহীন
এ বৃদ্ধ
ভ্যান চালিয়েই
জীবিকা নির্বাহ
করতেন। বর্তমানে তিনি
কথা বলতে
পারেন না। এ
সুযোগে তার
সেই ঘরটি
দেড় লাখ
টাকায় অন্যের
কাছে বিক্রি
করে দেয়ার
অভিযোগ উঠেছে
উপজেলা আওয়ামী
লীগের যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক
ও উপজেলা
পরিষদের ভাইস
চেয়ারম্যান সেলিম
রেজার বিরুদ্ধে। উপজেলার
শোমসপুর ইউনিয়নের
সাতপাকিয়া পুকুরপাড়
এলাকার আশ্রয়ণ
প্রকল্পে এ
ঘটনা ঘটেছে।
খোকসা উপজেলার নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও)
রিপন বিশ্বাস
জানিয়েছেন, আশ্রয়ণ
প্রকল্পের ঘর
কোনোভাবেই বিক্রি
বা হস্তান্তরের
সুযোগ নেই। সরকারি
আশ্রয়ণের ঘর
বিক্রি করা
আইনত অপরাধ। যার
নামে বরাদ্দ
দেয়া হয়েছে
কেবল সেই
ব্যক্তিই ওই
ঘরে বসবাস
করতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা
যায়, খোকসা
উপজেলার ওই
আশ্রয়ণ প্রকল্পে
একটি ঘরের
বরাদ্দ পেয়েছিলেন
বৃদ্ধ হারুন
অর রশিদ। তবে
আইন লঙ্ঘন
করে সেই
ঘর হস্তান্তর
করা হয়েছে
মন্টু ব্যাপারীর
কাছে। স্ট্যাম্পের মাধ্যমে
ঘরটি কিনে
সেখানে পরিবার
নিয়ে বসবাস
করছেন ওই
ব্যক্তি। আর মূল
মালিক হারুন
অর রশিদ
থাকেন ঘরের
বারান্দায়। তারা দুজনই
উপজেলার সাতপাকিয়া
গ্রামের বাসিন্দা। মন্টু
ব্যাপারী জানিয়েছেন,
উপজেলা পরিষদের
ভাইস চেয়ারম্যান
সেলিম রেজার
কাছ থেকে
তিনি দেড়
লাখ টাকার
বিনিময়ে ঘরটি
কিনেছেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ
প্রকল্পের আওতায়
সাতপাকিয়া গ্রামে
১৩টি ঘর
নির্মাণ করে
উপজেলা প্রশাসন। এর
মধ্যে একটি
ঘরের বরাদ্দ
পান হারুন
অর রশিদ। চলতি
বছরের ফেব্রুয়ারি
মাসে প্রশাসনের
পক্ষ থেকে
তাকে ঘরের
চাবি দেয়া
হয়। গত বৃহস্পতিবার
সরেজমিনে দেখা
যায়, আশ্রয়ণ
প্রকল্পের ওই
ঘরের দরজায়
তালা ঝুলছে। বারান্দার
এক কোনায়
কাপড় ও
টিন দিয়ে
ঘেরা মেঝেতে
শুয়ে আছেন
হারুন অর
রশিদ।
হারুন অর রশিদের
মেয়ে খাদিজা
খাতুন বলেন,
‘আমাাদের ওপর
চরম অন্যায়
করা হয়ছে। বাবা
ওই ঘর
কারো কাছে
বিক্রি করেননি। তিনি
তো কথাই
বলতে পারেন
না। ঘর বিক্রি
করলেন কখন?
আমরা গরিব। ফলে
কেউ-ই
আমাদের কথা
শুনছেন না।’ এ
ঘটনায় মন্টু
ব্যাপারীর স্ত্রী
মুসলিমা খাতুন
বলেন, ‘খোকসার ভাইস
চেয়ারম্যান সেলিম
রেজার মাধ্যমে
দেড় লাখ
টাকা দিয়ে
গত ২৪
এপ্রিল ঘরটি
কিনেছি। আমার কাছে
৩০০ টাকার
লিখিত স্ট্যাম্প
রয়েছে। হারুন অর
রশিদ বৃদ্ধ
মানুষ। তাই ঘরের
বারান্দায় থাকার
জায়গা দিয়েছি।’ তবে
অভিযোগ অস্বীকার
করে খোকসা
উপজেলা আওয়ামী
লীগের যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক
ও উপজেলা
পরিষদের ভাইস
চেয়ারম্যান সেলিম
রেজা বলেন,
‘আমার বিরুদ্ধে
ওঠা অভিযোগ
মিথ্যা ও
ভিত্তিহীন।’ ইউএনও রিপন
বিশ্বাস বলেন,
‘আমরা অভিযোগ
পেয়েছি। বিষয়টি খুবই
দুঃখজনক, তদন্ত
করে দেখা
হচ্ছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা
নেয়া হবে।’