ঘটনার বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে তারা সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেন।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় ’২৪ হলে। হলটির গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে মোবাইলে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসান। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী দ্রুত তার সহপাঠীদের জানান।
হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনার সময় তার স্ত্রী সেখানে গিয়ে মারমুখী আচরণ করেন। তিনি ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এ কারণে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকেও আটক করে পুলিশে দেয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার স্ত্রীকেও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এদিকে এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুজন শিক্ষক ও ক্যান্টিন কর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দেয়ায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনার পর ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল ও কর্মচারীদের হলের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’