চাঁদপুরের দুই পৌরসভা

ছেংগারচরে অপ্রতুল নাগরিক সুবিধা পুরোপুরি চালু হচ্ছে না নারায়ণপুর

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার দুটি পৌরসভার একটিতে নাগরিক সুবিধার অপ্রতুলতা আর অন্যটিতে কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। অন্যদিকে মতলব দক্ষিণের নারায়ণপুর পৌরসভা দেড় বছর ধরে কার্যক্রম শুরু করলেও মামলার কারণে এখনো নামমাত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর পৌরসভা ২০১৭ সালে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়। ৩৫ দশমিক ৩৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় জনসংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯১ জন। দীর্ঘ ২৫ বছরে রাস্তাঘাট ও স্যানিটেশনের কিছুটা উন্নয়ন হলেও ‘‌ক’ শ্রেণীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা গেছে। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর বর্তমানে চালু হলেও এর সুফল পাচ্ছে মাত্র দুই-তিনটি ওয়ার্ড। বাকি ছয়টি ওয়ার্ডের নাগরিকরা এখনো পৌরসভার পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এবং জনবল সংকটে সেবা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সুফিয়ান আহমেদ বণিক বার্তাকে জানান, ২০২৩ সালের পর এ পৌরসভায় নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে।‌ পৌরসভার পানির ওয়াটার টিটমেন্টটি চালু আছে তবে পানি সরবরাহ সব ওয়ার্ডে বিস্তৃত করা এখন জরুরি।

এদিকে ২০১০ সালে মতলব দক্ষিণের নারায়ণপুরকে পৌরসভার হিসেবে উন্নীত করা হয়। তবে এর কার্যক্রম কোনোমতে শুরু হয়েছে মাত্র দেড় বছর আগে। নয়টি ওয়ার্ড ও ৪৯ হাজার ৬৮ জন জনসংখ্যা অধ্যুষিত পৌরসভাটি বর্তমানে একটি ছোট টিনের ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের দায়ের করা মামলার কারণে পৌরসভার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। মামলার রায় বিপক্ষে গেলে পৌরসভাটি বাতিল হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। ফলে সরকার বড় কোনো বিনিয়োগ বা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে না। এখানে নেই বিশুদ্ধ পানির কোনো শোধনাগার, অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

নারায়ণপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত এ পৌরসভার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হবে না। তবে প্রশাসক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। তা দিয়েই কোনো মতে চলছে পৌরসভাটি।

আরও