মরিচের আবাদ বেড়েছে সিরাজগঞ্জে

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলে এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলে এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। পরিশ্রম ও খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় জেলায় দিন দিন মরিচের আবাদ বাড়ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে কাঁচা ও শুকনো মরিচ উৎপাদন হয়। আকর্ষণী রঙ ও পুষ্ট হওয়ায় এ জেলায় উৎপাদিত মরিচের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। দেশের বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানিও সরাসরি চরাঞ্চল থেকে মরিচ সংগ্রহ করে। এ বছর জেলায় ১ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। চাষকৃত মরিচের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাতের বিজলী, যমুনা, রশনী, ঝিলিক। উন্নত জাতের মধ্যে বারি-৩, সুপারসনিক, রংপুরী, বগুড়া ছাড়াও স্থানীয় জাতের মরিচের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে শুকনো মরিচের উৎপাদন হয়েছে দুই দশমিক পাঁচ টন।

জেলায় বর্তমানে ৭০-৯০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ এবং শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মরিচ ক্রয় করতে আসছেন পাইকাররা। সিরাজগঞ্জের পাইকারি কাঁচা বাজার এবং কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া হাট থেকে দেশের বড় বড় কোম্পানির প্রতিনিধিসহ ব্যাপারীরা মরিচ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ব্যাপারী চরের বিভিন্ন হাট থেকে মরিচ ক্রয় করে বালুচরেই শুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 

কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের উত্তর পাইকপাড়া গ্রামের মরিচ চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ৩২ শতক জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি করেও চার মণ শুকনো মরিচ রেখেছেন। শুকনো মরিচ বাজারে বর্তমানে ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্যে চার মণ মরিচ কমপক্ষে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

একই উপজেলার নাটুয়াপাড়ার কৃষক আবদুস সালাম বলেন, ‘চরে মরিচের আবাদ ভালো হয়। চাষ, সার কম লাগে। পরিশ্রম কম হয়, ভালো ফলন পাওয়া যায়। গত বছর ২০ শতক জমিতে মরিচের চাষ করেছিলোম। এ বছর এক বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। এরই মধ্যে ২০ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছি। আরো তিন মণ শুকনো মরিচ ঘরে রয়েছে। লাভবান হওয়ায় প্রতি বছর চরে মরিচের আবাদ বাড়ছে। এ বছর চরের বেশির ভাগ কৃষকই মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন।’

পাইকার রুহুল সেখ বলেন, ‘‌রঙ ও মান ভালো হওয়ায় এখানে উৎপাদিত মরিচের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। আমি কাজিপুরের বিভিন্ন চর থেকে মরিচ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করি।’

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ২০৪ টন। এ জেলায় উৎপাদিত মরিচের চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি। খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ায় জেলায় মরিচের আবাদ বাড়ছে।

আরও