নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে গতকাল দুপুরে শাহীন রাজ নামে এক তরুণকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশি। খবর পেয়ে ছুটে আসেন মা রহিমা বেগম। সন্তানকে প্রিজন ভ্যানে বন্দি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত লোকজনের কাছে বারবার প্রশ্ন করছিলেন, ‘আমার ছেলেকে ধরল ক্যান?’
বিলাপ করতে করতেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রহিমা বেগম। গণমাধ্যমকর্মীরা এগিয়ে গেলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে তো কিছু করে নাই। তারে ধরল ক্যান? সে ছাত্রও না। আমি একজন হার্টের রোগী। আজ শরীরটা খারাপ তাই ছেলেকে বাজারে পাঠাইছিলাম। এখন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল।’
আটককৃতদের তথ্য সংগ্রহ করতে ঘণ্টা খানেক পর ভাটারা থানায় গেলে দেখা যায় রহিমা বেগমও এসেছেন। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। ফোন করছেন বিভিন্নজনের কাছে। জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার ছেলের বাবা নেই। আমি মানুষের বাসায় কাজ করি। কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না। থানায় এসেছি, কেউ আমার বাবার (ছেলে) সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে না। আমাকে বাইরে বের করে দিছে। আমার ছেলে তো কোনো ছাত্র না। কোথাও পড়ে না। তাকে ধরল ক্যান?’
এদিকে রাজধানীর বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে গতকাল তিন নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জনকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে একজন মো. সাঈদ। পুলিশের প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে চিৎকার দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বাজার করে বাসায় যাচ্ছিলাম। রিকশা থেকে নামিয়ে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে এল। আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন আমাকে এখানে নিয়ে আসা হলো। আমার বাসা বসুন্ধরা ডি ব্লকে।’
পুলিশের হাতে আটক ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি গাড়ি ঠিক করতে এসেছিলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী? আমি বললাম ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির। তখনই আমাকে আটক করে পুলিশ। আমার বাসা পাশেই।’