নরসিংদীতে ভূমিকম্পে এক শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে এ ভূকম্পনের উৎপত্তি হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রার।
নিহতরা হলেন পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন, মালিতা গ্রামের কাজম আলী ভূইয়া (৭০), সদরের গাবতলী এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (৮) ও শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪২)। তাদের মধ্যে বৃদ্ধ কাজম আলী ভূইয়া গ্রামে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা যান। বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পলাশ থানার ওসি মনির হোসেন।
আর গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাসপিয়া (১৮), শামীম (২০), রাকিব (২৪), আতিকুর (৭), ওমর (১০), সাইফুল (৩৬), মেহেরউন (২০), আবির (৬), নাসরিন (৩৭), ইয়ামিন (২২), মিথিলা (২০), তামিম (৬), হনুফা (৪০), বিল্লাল (৫০), জাকির (৩৫), মান্নান (১৬), ইমানুল (১৯) প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানায়, ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন। এর মধ্যে নরসিংদীর সদরের গাবতলী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে ওমর ফারুকসহ তিনজন আহত হন। আর শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া ভুমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন।
ভূমিকম্পে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী সিভিল সার্জন সৈয়দ আমিরুল হক জানান, আহতের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন ও জেলা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে নরসংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূমিকম্পের কারণে কয়েকটি ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া প্রডাকশন। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরাতন রেল ব্রিজ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।