ডাবল ডেকার ট্রেন চালু করতে চায় রেল

সারা দেশে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোয় ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। বিশেষ এ ট্রেন চালানোর জন্য যেসব রুটের কথা বিবেচনায় নিচ্ছে রেলওয়ে, তাতে প্রাধান্য পেয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। সরকারের এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এ ট্রেন প্রবর্তনের আগে

সারা দেশে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোয় ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। বিশেষ এ ট্রেন চালানোর জন্য যেসব রুটের কথা বিবেচনায় নিচ্ছে রেলওয়ে, তাতে প্রাধান্য পেয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। সরকারের এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এ ট্রেন প্রবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠমো গড়ে তোলা এবং রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের বিদ্যমান সংস্কৃতিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর উদ্যোগটি আলোচনায় এসেছে মূলত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডাবল ডেকার ট্রেন রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজারসহ অন্যান্য লাইনে ডাবল ডেকার ট্রেন অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করে কমিটি। তবে এ ট্রেন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন, কারখানা আধুনিকায়নের প্রয়োজন হবে বলেও জানানো হয় কার্যপত্রে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ছয়টি আন্তঃদেশীয়, ১০৪টি আন্তঃনগর, ৬১টি মেইল, ১১৭টি লোকাল, ৭৫টি কমিউটার ও ৪৪টি অন্যান্য বা গুডস ট্রেন পরিচালনা করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর সংস্থাটি ৬৩৭ কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে। একই বছর পণ্য পরিবহন করেছে প্রায় ৩২ লাখ টন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডাবল ডেকার ট্রেন প্রবর্তনের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বাড়িয়ে রেলওয়েকে একটি টেকসই লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

সীমিত ভূমি আর বিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশে ডাবল ডেকার ট্রেন রেলপথে যাতায়াতে স্বস্তি এনে দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরাও। তবে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরো আগেই এ পরিকল্পনা নেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জমি কম। সেই তুলনায় জনসংখ্যা বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের এমন উন্নয়ন পরিকল্পনা করা উচিত, যাতে সীমিত জমি ব্যবহার করে অধিক সংখ্যক মানুষকে সেবা দেয়া যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে ডাবল ডেকার ট্রেন চালু। দেরিতে হলেও সংস্থাটি এ পরিকল্পনা শুরু করেছে।’

ডাবল ডেকার চালুর ক্ষেত্রে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের দিকে আরো বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দেখা যায় ধীরগতির সিঙ্গেল ডেকের কনটেইনার ট্রেনও প্রায়ই লাইনচ্যুত হচ্ছে। মূলত রেলপথ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর আগেই রেলওয়েকে এ ‘প্র্যাকটিস’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ ডাবল ডেকার ট্রেন পরিচালনার জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সঠিকভাবে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ। আমি মনে করি, ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর নির্দেশনা দেয়ার আগে আমাদের উন্নয়নের দর্শন থেকে রক্ষণাবেক্ষণের দর্শনে গুরুত্ব দেয়ার দিকনির্দেশনা দেয়া উচিত।’

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। উড়ালপথটি তৈরি করা হচ্ছে বিদ্যমান রেলপথের ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আশঙ্কা, ডাবল ডেকার ট্রেন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে এ এক্সপ্রেসওয়ে। বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যখন করা হয়, তখন ডাবল ডেকার কনটেইনার ট্রেনের হিসাব ধরেই করা হয়েছে। বর্তমানে যে উচ্চতা আছে, তা ডাবল ডেকার কনটেইনার ট্রেনের জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে ডাবল ডেকার ট্রেনের উচ্চতা ডাবল ডেকার কনটেইনারের তুলনায় কম। তাই এ ট্রেন চলতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা বর্তমানে যেসব অবকাঠামো নির্মাণ করছি, সেগুলো ডাবল ডেকার ট্রেন চালানোর উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যাপারে মনোযোগী হচ্ছি।’

আরও