নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বন্ধ হয়নি ধোপাজান নদীর পাথর উত্তোলন

সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদী থেকে পাথর উত্তোলনে স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদী থেকে পাথর উত্তোলনে স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার পরও সদর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুরে ইজারা ছাড়াই পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও থামছে না এ কার্যক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাথর উত্তোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। এ কারণে মূলত বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। এতে একদিকে বালুমহাল ইজারা না দেয়ায় বালি-পাথর উত্তোলনে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ সুযোগে অবৈধভাবে পাথর ব্যবসা করে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

সরজমিনে দেখা গেছে, ধোপাজান নদীর সদরগড় থেকে ডলুরার দুই পাড়ের গ্রামগুলো নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। রাতের আঁধারে ড্রেজারের সাহায্যে পাথর উত্তোলন করে স্টিলবডি নৌকার মাধ্যমে তা অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। নদীর তীরে ড্রেজার বসানোর কারণে নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে গ্রামগুলো। দিনের বেলা ভারত সীমান্ত এলাকায় সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করেন কিছু শ্রমিক। উত্তোলিত পাথর ৪০-৫০ টাকা দরে স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করেন। পরে ডলুরা এলাকার দুই পাশে স্তূপ করে রেখে সুযোগ বুঝে ট্রাক বা ট্রলির সাহায্যে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এসব পাথর ১০০-১২০ টাকা দরে ক্রাশার মিল ব্যবসায়ী ও জেলা শহরের কিছু ঠিকাদার ক্রয় করেন। ডলুরা এলাকায় স্তূপ করে রাখা পাথরের মালিক ওই এলাকার কাজল, সবুজ, শামছুল, শাহল, দিলুসহ কয়েকজন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডলুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ‘এলাকার গরিব মানুষ নদীতে পাথর তুলে ব্যবসায়ীদের কাছে ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এ পাথর পরে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। যে কেউ চাইলে কিনতে পারবে। ডলুরার মানুষই এ ব্যবসা করে।’

পাথর ব্যবসার বিষয়ে ডলুরা গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমি এখন পাথর ব্যবসা করি না, আগে করতাম। প্রশাসন এখন বেশি সমস্যা করে। অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। আমি ও সাদেকসহ অনেকেই পাথর কিনতাম। এখন কিনি না।’

বালি ও পাথর ব্যবসায়ী কবির মিয়া বলেন, ‘ইজারা বন্ধ থাকলেও অবাধে পাথর উত্তোলন হচ্ছে। ইজারা বন্ধ রাখায় অসাধু ব্যক্তিরা সুযোগ পাচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মান্নান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একাধিকবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।’

আরও