ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান

যাচাই হবে যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে নয়

১২ তারিখ ধানের শীষ নির্বাচিত হলে ১০ হাজার টাকার যে কৃষি ঋণ আছে, সেই কৃষি ঋণও মওকুফ করতে চাই।

যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে গিয়ে যাবে। সবাইকে যাচাই করা হবে যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে কোনো যাচাই হবে না। সেরকম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে বিএনপি আপনাদের পাশে আছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও কেউ কারো ধর্ম দেখেনি। এদেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করে আসছে। আমরা চাই, সামনের হাজার বছরেও সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিতে বসবাস করুক। যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনে গিয়ে যাবে। সবাইকে যাচাই করা হবে যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে কোনো যাচাই হবে না। সেরকম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে বিএনপি আপনাদের পাশে আছে। এসব কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ শনিবার ঠাকুরগাঁও বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বেছে নেয়ার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের মানবু যেমন তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, তেমনি তারা তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও অনেকদূর পিছিয়ে গিয়েছে। তাই এবার সুযোগ এসেছে, দেশকে পুনর্গঠনের।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগে শীতের সময় ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আসতাম শীতের কাপড় নিয়ে। আজ আবার ঠাকুরগাঁওয়ে আবার এসেছি ভিন্ন একটা পরিস্থিতিতে এসেছি। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন। মানুষের যে ভোট দেয়ার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল সেই অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার নির্বাচন। যে মানুষগুলো অত্যাচারিত হয়েছে তাদের ত্যাগকে মূল্যায়নের নির্বাচন।

তিনি বলেন, দেশে তরুণ যুবকদের যে পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। দেশের নারীদের মা-বোনদের মূল্যায়ন করার জন্য তাদের যেভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা দরকার ছিল সেটাও হয়নি। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করা হয়নি। দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সেটাইও করে নাই বিগত স্বৈরাচার সরকার। আগামী ১২ তারিখে সুযোগ এসেছে। আমরা যেমন জনগণের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করব তেমনি দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দেব।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের যদি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে না পারি তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আপনারা দেখেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকার পরিচালনায় ছিলেন তিনি নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের হাজারো লক্ষ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। কিন্তু এই নারী এই মা-বোনদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। তাই আমরা ঘরে ঘিরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের অধিকারী হবেন এই দেশের মায়েরা, এই দেশের নারীরা। তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতে পারে সেজন্য আমরা প্রতি মাসে তাদের কাছে একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কৃষক ভাইদের পাশেও দাঁড়াতে চাই। তাদের সকলের কাছে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ নিতে পারবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সহজেই সার, কীটনাশক, বীজ পৌঁছে দিতে চাই। ১২ তারিখ ধানের শীষ নির্বাচিত হলে আমরা ১০ হাজার টাকার যে কৃষি ঋণ আছে, সেই কৃষি ঋণও মওকুফ করতে চাই।

তারেক রহমান আরো বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিভিন্ন এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছে সেই ঋণও আমরা জনগণের পক্ষ হয়ে সরকার থেকে পরিশোধ করতে চাই। যাতে ঋণের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পেতে পারে।

তিনি বলেন, সমগ্র উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান। আমরা যেমন কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো, তেমনি সমগ্র উত্তরাঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত যত শিল্প আছে, আমরা সেসবের কলকারখানা স্থাপন করতে চাই। শুধু তাই নয়, এই এলাকায় অনেক তরুণ যুবক আছে যারা শিক্ষিত কিন্তু বেকার। সেইজন্য আমরা সিধান্ত নিয়েছি, এই এলাকার তরুণ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দিতে চাই। সেটা কৃষিতে হোক বা শিল্পে, আমরা আমাদের তরুণ যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা মা-বোনদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে স্বাবলম্বী করতে চাই। কিন্তু সেজন্য, এদেশের যে মালিক, জনগণ, তাদের সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাইছি, ধানের শীষে ভোট চাইছি। যাতে আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি।

ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে যে রেশম শিল্প আছে, পঞ্চগড়ে যে চা শিল্প আছে এগুলোকে আমরা আবার গড়ে তুলতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজের যে দাবি আছে, সেটিও আমরা চেষ্টা করব। আমরা সমগ্র এলাকায় যেখানে যেখানে প্রয়োজন, হিমাগার তৈরি করতে চাই। যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে। আমরা কৃষি ও শিল্পে যেমন জোর দিব তেমনি আইটি নিয়ে যে তরুণরা কাজ করেন আমরা তাদের জন্য আইসিটি পার্ক বা আইসিটি হাব গড়ে তুলতে চাই। যাতে এলাকার ছেলেরা এলাকায় থেকেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা শিশু ও মা-বোনদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য হেলথ কেয়ার নিযুক্ত করব, যারা গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে মা ও শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেবে। সেই সঙ্গে, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজের যে দাবি আছে, বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা ইনশাল্লাহ সেই দাবিও বাস্তবায়ন করব। উচ্চশিক্ষার বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দাবি আছে, সেটাও আমরা বিবেচনা করব।

আরও