মাধ্যমিকে নতুন কারিকুলাম

পাঠদানে গতি সঞ্চারে বাগেরহাটে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শিক্ষকরা

বাগেরহাটে অষ্টম ও নবম শ্রেণীর নতুন কারিকুলামে পাঠদানের জন্য ৫ হাজার ৩৩২ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটে অষ্টম নবম শ্রেণীর নতুন কারিকুলামে পাঠদানের জন্য হাজার ৩৩২ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। জেলার নয়টি উপজেলার ৫২৪টি মাধ্যমিক, কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে কচুয়া, শরণখোলা সদর উপজেলার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও প্রশিক্ষণ চলছে। হাতে-কলমে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণ পাঠদানে গতি সঞ্চার হবে বলে ধারণা শিক্ষক আয়োজকদের।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকদের বাছাই করা হয়েছে। প্রথমে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। মাস্টার প্রশিক্ষক হিসেবে ওই প্রশিক্ষকরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে ১১টি বিষয়ে ৩২৭ প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিষয়গুলো হচ্ছেবাংলা, ইংরেজি, গণিত, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিল্প সংস্কৃতি, ইতিহাস সমাজবিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম, বিজ্ঞান এবং জীবন জীবিকা।

বাগেরহাটের চিরুলিয়া বিষ্ণুপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক মোস্তাহিদুর রহমান মুক্তা বলেন, ‘নতুন কোনো বিষয় শেখার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। নতুন কারিকুলাম বিষয়ে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যা শিখলাম তা সারা জীবন মনে থাকবে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরো গতি সঞ্চার হবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া বাগেরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক অজিয়ার রহমান শিকদার বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার। শ্রেণীকক্ষে শিখনকালীন মূল্যায়ন শিক্ষকরা দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। নতুন কারিকুলামের উদ্দেশ্য লক্ষ্য সফল হবে।

প্রশিক্ষক গাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাল্টিমিডিয়াসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে প্রশিক্ষণে। নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে নানাভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লব্ধজ্ঞান শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের সহায়ক হবে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরের ৫২৪টি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার ৩৩২ শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।  তিনটি উপজেলার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অন্য ছয়টি উপজেলার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এর আগে আমরা ষষ্ঠ সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে খণ্ডকালীন শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, মাদ্রাসা সুপার, সহকারী মাদ্রাসা সুপার এবং অধ্যক্ষদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ফলে শিক্ষকরা পাঠদানে আরো বেশি দক্ষ আন্তরিক হবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরও