যেভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন খালেদা জিয়া

দলীয় ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন যা তখন রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার আবির্ভাব এক বিস্ময়কর অধ্যায়। রাজনীতিতে প্রবেশ তার পরিকল্পিত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে যায়। যার প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গভীর সংকটে নিপতিত হয়। সে সময় সময়ে দলটির নেতারা মনে করেন জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বিএনপির ঐক্য রক্ষার দায়িত্ব বেগম খালেদা জিয়াই নিতে পারেন। এ উপলব্ধি থেকেই এ.এস.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, জুলমত আলী, রফিকুল ইসলাম মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, হারুনুর রশীদ, লোকমান হোসেন ফকির, তারিকুল ইসলাম, জাহানারা বেগম ও শাহারা মাজিদসহ একাধিক নেতা তার কাছে যান।

বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের প্রাথমিক অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সিদ্ধান্ত বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করে।

২১ জানুয়ারি ১৯৮২ বিএনপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের ঘোষণা হলে, তরুণ নেতৃত্বের চাপের মুখে ৫ জানুয়ারি রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রস্তাবক ছিলেন বরিশালের মঠবাড়িয়া থানা বিএনপির সভাপতি শামসুল হক এবং সমর্থক ছিলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান মোল্লা। তবে দলীয় ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন যা তখন রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়।

১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি জাতির উদ্দেশে এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। কিন্তু এ আপাত স্থিতাবস্থা ভেঙে যায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ, যখন জেনারেল এরশাদ অস্ত্রের মুখে বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন। গণতন্ত্র পুনরায় নির্বাসিত হয়।

এ অন্ধকার সময়েই বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে অবতীর্ণ হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল বিএনপির বর্ধিত সভায় তার প্রথম রাজনৈতিক ভাষণ জাতিকে নতুন দিশা দেখায়। তিনি নির্বাচিত হন দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে সাতদলীয় জোটের নেত্রী হিসেবে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অগ্রভাগে অবস্থান নেন। ‘আমি অবৈধ এরশাদকে মানি না’ এই উচ্চারণ তাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের প্রতীক করে তোলে। ১৯৮৪ সালের ১০ মে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আরও