সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী

বন কর্মকর্তারা জানান, বাঘিনীটির বয়স প্রায় ১১ বছর। ভাগ্য অনুকূলে থাকলে এটি আরো কয়েক বছর বেঁচে থেকে নতুন শাবকের জন্ম দিতে পারে, যা সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে পড়া সেই বাঘিনীকে আবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। আজ রোববার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীসংলগ্ন আন্ধারমানিক এলাকায় বাঘিনীটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া সবুজ রঙের একটি পরিবহন বাক্সের স্লাইডিং দরজা খুলে দেয়া হলে মুহূর্তেই বাঘিনীটি ম্যানগ্রোভ বনের দিকে ছুটে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে পরিচিত পরিবেশে ফিরে যেতে পেরে যেন নতুন জীবন ফিরে পায় প্রাণীটি।

অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী ।

বন কর্মকর্তারা জানান, বাঘিনীটির বয়স প্রায় ১১ বছর। ভাগ্য অনুকূলে থাকলে এটি আরো কয়েক বছর বেঁচে থেকে নতুন শাবকের জন্ম দিতে পারে, যা সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত ৪ জানুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পসংলগ্ন শড়কির খাল এলাকা থেকে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়, উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন আগে চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে তার সামনের বাম পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে প্রাণীটি দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, পরে ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ট্রাঙ্কুলাইজার প্রয়োগ করে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ ঘোষণা করা হলে তাকে আবার বনে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচরণ করে। বাঘিনীটি আগের আবাসভূমিতে ফিরে যায় কিনা, তা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ জন্য অবমুক্ত স্থানের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৯টি এবং উদ্ধারস্থলের কাছে একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করবে, যার মাধ্যমে প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আরও