রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানে বৈমানিক নিয়োগ

অনিয়ম খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের তুলনায় নেই পর্যাপ্ত বৈমানিক। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে আটজন ক্যাপ্টেন ও ছয়জন ফার্স্ট অফিসার নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে বৈমানিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো যথাযথ অনুসরণ না করেই নিয়োগ দেয়া হয় সেই ১৪ জন বৈমানিককে।

রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের তুলনায় নেই পর্যাপ্ত বৈমানিক। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে আটজন ক্যাপ্টেন ছয়জন ফার্স্ট অফিসার নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে বৈমানিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো যথাযথ অনুসরণ না করেই নিয়োগ দেয়া হয় সেই ১৪ জন বৈমানিককে। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে বিমানের একটি পক্ষ নানা অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে ওই নিয়োগ। অবস্থায় বৈমানিক নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাপ্টেন হিসেবে বোয়িং ৭৭৭ বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ঘণ্টা ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিমানে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের নির্ধারিত ফ্লাইং আওয়ারের অভিজ্ঞতা নেই। কেউ কেউ ক্যাপ্টেন হিসেবে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। আবার কেউ পূর্ববর্তী এয়ারলাইনসে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কারো কারো বয়স আবার ৬০ বছরের বেশি। অন্যদিকে নিয়োগ পাওয়া ফার্স্ট অফিসারদের যোগ্যতা দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা অদক্ষতার কারণে এর আগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন এমন বৈমানিককেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গত বছর ২২ নভেম্বর বোয়িং-৭৭৭-এর জন্য ক্যাপ্টেন নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আর বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য ক্যাপ্টেন পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় গত ২৮ নভেম্বর। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিফ অব ট্রেনিং ক্যাপ্টেন সাজিদ আহমেদ নিয়মবহির্ভূতভাবে -মেইলের মাধ্যমে কয়েকজন বৈমানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। -মেইলে তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িং-৭৭৭ বোয়িং-৭৮৭ উড়োজাহাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্রু নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। বিষয়ে আপনার ইচ্ছা প্রত্যাশাগুলো আমাদের জরুরি ভিত্তিতে জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনেও বৈমানিক নিয়োগের অনিয়মে ক্যাপ্টেন সাজিদ আহমেদের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কো-পাইলটদের বোয়িং-৭৭৭-এর ক্যাপ্টেন হিসেবে নিযুক্ত করতে ক্যাপ্টেন সাজিদ তাদের থেকে অর্থ সংগ্রহ বিতরণ করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বৈমানিক নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চিঠি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চিঠি পাঠায় বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা . আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, বিমানে ক্যাপ্টেন কো-পাইলট নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়নি। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্তব্য সুপারিশের বিষয়ে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয় বিমানকে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠি গত ১৯ মে হাতে পান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চিঠিতে আরো বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন ফার্স্ট অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতাসূচক যাচাই-বাছাই করে ত্রুটিমুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা . আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, বৈমানিক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা এসেছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, পাইলট কো-পাইলট হিসেবে নিয়োগের জন্য বিমান যে ১৪ জন বৈমানিককে মনোনীত করেছে তারা বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। এর আগে কিন্তু তারা উড়োজাহাজ পরিচালনার সুযোগ পাবেন না। সে হিসেবে ওই ১৪ জনের নিয়োগ এখনো চূড়ান্ত নয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে বৈমানিক সংকট কাটাতে ক্যাপ্টেন ফার্স্ট অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে অসংগতি পাওয়ায় এরই মধ্যে বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের জন্য বৈমানিক নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈমানিক নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিমানের কাছে বিভিন্ন তথ্য প্রতিবেদন চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১৬টি উড়োজাহাজ বিমানের পাঁচটি লিজ নেয়া। নিজস্ব বাহনগুলোর মধ্যে বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর চারটি, বোয়িং-৭৮৭- চারটি, বোয়িং-৭৮৭- দুটি, বোয়িং-৭৩৭ দুটি ড্যাশ- চারটি।

আরও