বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পায়ে পাড়া দিয়ে গায়ে ধাক্কা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করতে চায়। তারা প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০টা করে ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে পুশ ইন করছে। আমি সরকারকে বলব, আপনারা এর কড়া জবাব দিবেন।
শনিবার (১৪ জুন) বিকালে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন সদস্য সংগ্রহের ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেছেন বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি পতাকা আছে, একটি স্বাধীন ভূখণ্ড আছে, শক্তিশালী সার্বভৌমত্ব আছে। এ দেশের মানুষ জুলাই সৃষ্টি করতে পারে, আগস্ট সৃষ্টি করতে পারে। এ দেশের তারুণ্যের রক্ত ঝলকে ওঠে, সে রক্ত প্রতিরোধ করতে জানে, এ রক্ত ৭১, ৯০, ৭ নভেম্বর সৃষ্টি করেছে। আজকের দিল্লির প্রভুরা এটা ভুলে গেছে। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ এভাবে প্রতিরোধ করতে জানে আর প্রতিবাদ করতে জানে। তাই তাদের আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই এভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য করে, অশ্রদ্ধা দেখিয়ে আপনারা যদি পুশ ইন অব্যাহত রাখেন, এর দায়দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের কিছু রাজনৈতিক বন্ধু উষ্মা প্রকাশ করেছে, লন্ডনের বৈঠকে নাকি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনাদের ইতিহাসটা বলেন তো দেখি কখন আপনারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করেছেন। পাকিস্তান আন্দোলনে আপনারা সমর্থন করেননি, ৭১ সালে বিরোধিতা করেছেন, ৮৬ সালে হাসিনার সঙ্গে নির্বাচন করেছেন, ৯৫ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। ৫ আগস্টের পর বললেন, আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করবেন। তাহলে আপনাদের রাজনীতিটা কিসের রাজনীতি।
তিনি বলেন, রাজনীতি মানেই হচ্ছে জনগণের কাছে ওয়াদা বা অঙ্গীকার। আপনাদের রাজনীতিটাই ভুলে ভরা। এই ভুলে ভরা রাজনীতি আপনারা শুরু থেকেই করে আসছেন। আর বিএনপি সব সময় ইতিবাচক রাজনীতি করে আসছে। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে, ভূখণ্ড রক্ষার প্রশ্নে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যদি আপস করতেন তাহলে তাকে জেলে থাকতে হতো না। তিনি কখনো জনগণকে ছেড়ে যাননি।
গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, মো. মুজিবুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, আবু তাহের মুসল্লি প্রমুখ।