ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত ফেরত পাচ্ছেন না।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট।
এছাড়া জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ পেয়েছেন ৪১৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারী ১১ হাজার ১৫৬ ভোট, এনডিএমের আলমগীর হোসাইন ১০৬ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের কাউছার আলম ১১৫ ভোট আর বাসদের বিল্লাল হোসেন ২০৩ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ জন। ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ জন, যা শতকরা ৫৭ দশমিক ৯৩ ভাগ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম প্রায় ২০ হাজার ৩৭০ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার পেয়েছেন ৪২৪ ভোট, নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম ২৫৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ইব্রাহিম মিয়া ১ হাজার ৭৮০ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া ২৮৮ ভোট আর ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন ৬ হাজার ৭৭৪ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০টি, যা শতকরা ৬০ দশমিক ১৭ ভাগ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম প্রায় ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট।
এছাড়া জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম ৫ হাজার ৫১ ভোট, এলডিপির মো. শামছুদ্দিন ৪৮৮ ভোট এবং এনপিপির সেলিম মাহমুদ ২৮৯ ভোট।
আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ জন, ভোটের হার ৬১ দশমিক ২৯ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট।
অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ পেয়েছেন ২১ হাজার ১০৩ ভোট, জেএসডির তানিয়া রব ২২ হাজার ৪০ ভোটসহ স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ভোট পান।
এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন, যা শতকরা ৫৭ দশমিক ৬৩ ভাগ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম প্রায় ৩০ হাজার ১২০ ভোট।