কোম্পানি তাদের চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলে বসতি দিতে চাইলেও কক্স বেছে নেন বাঁকখালী ও নাফ নদীর মধ্যবর্তী দক্ষিণাঞ্চল। বর্তমান শহরের বাঁকখালী নদীর তীরে উদ্বাস্তুদের বসতি স্থাপনের পাশাপাশি তিনি একটি বাজারও প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে ‘কক্সের বাজার’ নামে পরিচিত সেই জনপদই পরে কক্সবাজারে রূপ নেয়। তবে কক্সের এ উদ্যোগ শুধু উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বনভূমি আবাদ, কৃষি ও রাজস্ব সম্প্রসারণ এবং বর্মি ও পার্বত্য আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
দুই শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কক্সবাজারের বাস্তবতা যেন সেই ইতিহাসেরই বিস্তৃত রূপ। তখন অঞ্চলটির গুরুত্ব নির্ধারিত হয়েছিল উদ্বাস্তু, সীমান্ত ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে; এখনো সেই তিন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতি, মানব পাচার, মাদক কারবার এবং মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বৃহৎ অর্থনৈতিক অবকাঠামো। পর্যটনের শহর কক্সবাজার তাই এখন একই সঙ্গে দেশের অন্যতম সংবেদনশীল সীমান্তভূমি ও সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক অঞ্চল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই নতুন করে আলোচনায় আসে দেশের সর্বদক্ষিণের এ জেলা। সফরে চীনের পক্ষ থেকে দেশটির ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি সম্ভাব্য করিডোরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ জেলায়ই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং ভূরাজনৈতিকভাবে আলোচিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাও উঠে এসেছেন এ জেলা থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কক্সবাজারের গুরুত্ব এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। ফলে এ জেলাকে কেন্দ্র করে নেয়া সিদ্ধান্ত শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় স্বার্থের জন্যও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরসংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রস্তাবিত করিডোরটি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয়ে পৌঁছবে। সেখান থেকে এর একটি শাখা ইয়াঙ্গুন এবং অন্যটি রাখাইন রাজ্যের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত যাবে। পরে রাখাইন থেকে সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে করিডোরটি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দুটি বৃহৎ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত—চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল। তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য চীন এখনো মালাক্কা প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে মালাক্কা প্রণালি ঘিরে ভারতের নৌ ও উপকূলীয় উপস্থিতিও অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে প্রস্তাবিত এ করিডোর চীনের জন্য বিকল্প যোগাযোগ ও বাণিজ্যপথের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। চট্টগ্রাম ও আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চল যেহেতু আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব কক্সবাজার, মাতারবাড়ী এবং পুরো উপকূলীয় বলয়ে পড়বে।’
ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি কক্সবাজারের অর্থনৈতিক গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে। পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত এ জেলাকে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি কেন্দ্রে রূপ দিতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বৃহৎ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কয়েকটি চালু হয়েছে, কয়েকটি নির্মাণাধীন এবং কিছু বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ চলছে। এরই মধ্যে চালু হয়েছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অবস্থান কক্সবাজারকে দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের কেন্দ্রেও পরিণত করেছে। জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও নাফ নদী। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর রোহিঙ্গা সংকট তীব্র হয়ে উঠলে কক্সবাজার বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রে আসে। পরবর্তী দুই বছরে নয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১২ লাখ ১ হাজার ১৭১ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথম বড় আকারে ১৯৭৮ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঘটলেও গত এক দশকের ঢল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সে সময় তিনি সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। সংকট নিরসনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সে সময় রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ড. খলিলুর রহমানকে। বর্তমানে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
কক্সবাজারের গুরুত্ব শুধু ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় রাজনীতিতেও এ জেলা থেকে উঠে আসা নেতাদের প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আরো সুস্পষ্টভাবে সামনে আসেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এ সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। সরকার গঠনের আগে থেকেই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। এ জেলা থেকে উঠে আসা অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন।
কক্সবাজারের রাজনৈতিক গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও এ জেলা থেকে উঠে এসেছেন দুই মন্ত্রী—খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ ও মৌলভি ফরিদ আহমদ। পেশায় দুজনই ছিলেন আইনজীবী। চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় জন্ম নেয়া খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন এবং অবিভক্ত বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে রামু উপজেলার রশিদনগরের সন্তান মৌলভি ফরিদ আহমদ ১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অগ্রসরমাণ জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচার, মাদক চোরাচালানের জন্যও সমলোচিত। সীমান্তকেন্দ্রিক এসব অপরাধের প্রভাব জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের বিভিন্ন তালিকা ও অভিযানে স্থানীয় অপরাধীদের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতারাও এসব অপরাধ দমনে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টেকনাফের মতো সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে আসা উচ্ছেদকৃত বিশাল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে এ সমস্যাটি আরো জটিল রূপ নিয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে সফল অভিযান চালানো হয়েছে, এখানেও সেই মডেলে কাজ করা হবে।’
এছাড়া বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে কক্সবাজার জেলার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রসঙ্গও। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন সরকার দাবি করেছিল, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইজারা দিলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। তাদের ভাষ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে দ্বীপটি চেয়েছিল এবং তাতে সম্মত না হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দ্বীপটিকে ঘিরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে একই আলোচনা আবার সামনে আসে। সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে কক্সবাজার দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির আলোচনায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও মাদক কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প কক্সবাজারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও জেলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কক্সবাজার একটি ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল—এখানে সাগর, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত সবই আছে। পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে—যেমন গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এগুলো দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।’
উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু সমস্যা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মাদক, মানব পাচার, রোহিঙ্গা সংকট, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ভূমি দখল এবং বিভিন্ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনিয়ম বন্ধ না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা একসঙ্গে না চললে কক্সবাজারের সম্ভাবনা পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’