পাকিস্তানের কারাগার থেকে ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান শেখ মুজিব

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। ভোরবেলা আকস্মিকভাবেই পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ক্র্যাকডাউনের রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন তিনি।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। ভোরবেলা আকস্মিকভাবেই পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ক্র্যাকডাউনের রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন তিনি।

তিনি আটক হওয়ার পর পরই দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় হলেও কারাগারে আটক থাকেন শেখ মুজিব।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় এক সামরিক আদালতে তার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে আনা ১২ অভিযোগের ছয়টিরই শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাবন্দি অবস্থায় তাকে ফাঁসি দেয়ারও পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তান সরকারের। তাকে ফাঁসি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল ইয়াহিয়া খান। তবে যুদ্ধে পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় তার ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে শেখ মুজিব মুক্তি পান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ভোরে। সেখান থেকে তাকে ও ড. কামাল হোসেনকে একটি উড়োজাহাজে তুলে দেয়া হয়। প্রথমে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সেখান থেকে স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৬টায় তাদের বহনকারী উড়োজাহাজটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছায়।

লন্ডন থাকাকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথসহ অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। বিবিসিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারও দেন তিনি। লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ উড়োজাহাজে ১০ জানুয়ারি সকালে তাকে দিল্লি পৌঁছে দেয়া হয়।

আরও