গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চাইছে বাংলাদেশ, বিবিসি বাংলার খবর

কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, বিশ্বজুড়ে এখন যে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে সে আলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়- এমন ইঙ্গিত হয়তো সরকার এ আগ্রহ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের পরিকল্পনা করেছেন এর অংশ হতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারাও 'গুরুত্বপূর্ণ' এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে তারা আগ্রহী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার–সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তবে মার্কিন প্রশাসনের দিক থেকে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া দুপক্ষের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা সহজ করা ছাড়াও রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের বিষয় উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করে যেসব দেশের নাম নতুন করে তালিকাভুক্ত করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশও আছে এবং বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য এ নিয়ম ২১ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এসব কিছুর মধ্যে গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে বাংলাদেশ যোগ দিতে আগ্রহী- সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রকাশের পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, কিসের ভিত্তিতে সরকার এ আগ্রহ প্রকাশ করলো, সেটি বিস্তারিত জানালে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন যে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে সে আলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়- এমন ইঙ্গিত হয়তো সরকার এ আগ্রহ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের আওতাভুক্ত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হলেও গাজায় জাতিসংঘের আওতায় এ ফোর্স গঠিত হলে তাতে বাংলাদেশের জড়িত হতে আগ্রহী হতেই পারে বলে মনে করেন এ সাবেক রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এ বাহিনীর গঠন প্রক্রিয়া এবং কাজের ধরণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাধারণত বাংলাদেশ শুধু জাতিসংঘ অনুমোদিত শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশ নিয়ে থাকে। ধারণা আছে, এটাও জাতিসংঘের অনুমোদনেই হতে পারে। সেজন্যই হয়তো ট্রাম্প প্রশাসনকে আগেই বাংলাদেশের দিক থেকে ইঙ্গিত দেয়া হলো আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেছেন, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক কিছু নেই এবং এটি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করবে না। তবে এ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে এবং ওআইসি সদস্যদের মধ্যে কোনো ভুলবুঝাবুঝি যেন না হয় সেজন্য সচেতন থাকা জরুরি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটকে এড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক কিছু হবে না। আবার চীন ফ্যাক্টরও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি হবে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের এলডিসিতে উত্তরণ ও বাণিজ্য চুক্তি আলোচনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা এ মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত নভেম্বরে গাজা উপত্যকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি খসড়া প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়। এতে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আইএসএফ গঠনের কথা বলা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এ বাহিনী গাজায় অস্ত্র জমা নেয়া থেকে শুরু করে সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা পর্যন্ত সব কাজ তথা নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। এরই মধ্যে পাকিস্তান এ বাহিনীতে নিজেদের সৈন্য দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আইএসএফ-এর ম্যান্ডেট এবং রেফারেন্সের শর্তাবলী কী হবে, তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

আরও