যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে ডিসি-ইউএনও, জানালেন সমবেদনা

জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার বৃষ্টির ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারটির পাশে আমরা আছি, সেই সমবেদনা জানাতে আমরা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে এসেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যার শিকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দেশের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মর্জিনা আক্তার ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব। সোমবার ( ২৭ এপ্রিল) বেলা দুইটার দিকে বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায় যান তারা।

এ সময় বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন, মো. ওবায়দুর রহমান, খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদল ব্যাপারীসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন ঢাকায় থাকায় তার সঙ্গেও মোবাইলে কথা বলে তিনি সমবেদনা জানান।

জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার বৃষ্টির ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারটির পাশে আমরা আছি, সেই সমবেদনা জানাতে আমরা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে এসেছি। পরিবার পরিজন যারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃষ্টির আমাদের মেয়ে, তার এমন মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে। বৃষ্টির বাবার সঙ্গে আমরা ফোনে কথা বলে তার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বৃষ্টির লাশটি পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়া গেলে দেশে আনতে তিনি আবেদন করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

মর্জিনা আক্তার আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেন তার বাবা ফেরত পান সে বিষয়টিও আমরা দেখছি। কারণ, বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসগুলোই তার পরিবারের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আসলে মেয়ে চলে গেছে, এখানে মা-বাবার কষ্টের তো শেষ নাই। আমরা তাদের পাশে আছি। তাকে আমাদের প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানীর মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। রাজধানীতে একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বৃষ্টি ভাই-বোনের মধ্যে ছো্ট। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন মোবাইলের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমেরিকার পুলিশ এখনো আমার মেয়ের লাশ উদ্ধার করার কোন খবর আমাদের দিতে পারেনি। আমি চাই, আমার মেয়ের লাশ আমেরিকা পুলিশ উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুক। আর আমার মেয়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো যেন ফেরত দেয়। যা আমাদের বেঁচে থাকার স্মৃতি হিসেবে রেখে দিতে চাই। সরকার ও প্রশাসনের কাছে তিনি এ অনুরোধ করেছেন বলে জানান।

আরও