নাটোরের বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর হস্তক্ষেপে বাস চলাচল শুরু হয়।
জানা গেছে, আজ ভোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে গেলেও সকালে হঠাৎ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আগাম ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের খোঁজ করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা
সংবাদ পেয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বিষয়টি নিয়ে দুই জেলার পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। তার উদ্যোগের পরই বাস চলাচল পুনরায় চালু হলে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে।
পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস নাটোরে আটকে দেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। তারা যাত্রীদের নামিয়ে অন্য একটি বাসে তুলে দেন। এর জবাবে রাজশাহীর শ্রমিকেরা নাটোরের তিনটি বাস আটকে রাখেন। পরবর্তীতে এক পক্ষের বাস ছেড়ে দিলে অন্য পক্ষও বাস ছেড়ে দেয়। কিন্তু মূল বিরোধের সুরাহা না হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী পরিবহন সংগঠন।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, রাজশাহী থেকে দর্শনা পর্যন্ত নতুন বাস সার্ভিস চালুর প্রতিবাদে নাটোরের শ্রমিকেরা বাস আটকে দেন। এ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ জানান, অনুমতি ছাড়া নতুন বাস চলায় সেটি ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজশাহীতে নাটোরের কয়েকটি বাস আটকে দেয়া হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও দেশ ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা জানান, নাটোরের পরিবহন নেতাদের কারণে বারবার যাত্রী সাধারণকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী প্রশাসনিক সমাধান দাবি করেন। তিনি আরো জানান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এ বিষয়ে নজর দিয়েছেন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করছেন।