আগামী এক বছরের মধ্যে রাশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা করছে দুই দেশ। রাশিয়া সফরে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জানা গেছে, প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছে তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। দেশটিতে কর্মী বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া উভয় পক্ষ একমত হয়েছে যে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ দুই দেশের প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশ বাজারে বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধ রফতানি দ্রুত বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাবকে রুশ পক্ষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
সফরকালে প্রযুক্তি খাত বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে সহযোগিতার প্রসঙ্গও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। ড. খলিলুর রহমান কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের প্রয়োগ নিয়ে একটি রুশ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন, যা রুশ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করে।
এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নে সহায়তা এবং দেশে এআই বিষয়ে সেন্টার অব এক্সসিলেন্সপ্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে তিনদিনের সরকারি সফরে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে সফর করছেন তিনি।