ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি ন্যায় ও মজলুমের পক্ষে এবং সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, তার জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত; তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের আদর্শ ও অবস্থান সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন।
উপাচার্য আরো বলেন, তার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা নয়; এটি একটি আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক চিন্তাধারাকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে অন্যায় ও সহিংসতার সংস্কৃতি আরো গভীর হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাছিমা খাতুন, অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা মো. বোরহান উদ্দিন।
দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা পরিচালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম। এতে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ ওসমান হাদির আদর্শ, রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেন এবং তার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্মরণসভা শেষে শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।