সারা দেশের সঙ্গে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে আজ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই প্রায় সব কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোটারদের মধ্যে নারী ও তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
সকাল সাতটার দিকে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের পশ্চিম শিরোমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা। কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
ভোট দিতে আসা শিরোমনি এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক জুট মিল শ্রমিক আবু জাফর (৬৫) বলেন, ‘বাড়ি কাছেই হওয়ায় সকালে এসেছি। ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।’
ওই কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার ছয়টি আসনে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ছয়, জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থী । বাকিরা বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।
এ ছয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ১ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ জন, নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ২৯ জন।
নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা জেলায় ১৮ হাজার ৬২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
খুলনার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, জেলার ছয়টি আসনের ৮৪০টি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আনসার সদস্য, পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট ও টহল দল মোতায়েন রয়েছে। ভোটাররা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।