রাজধানীর ৩০টি স্থানে সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি করছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ ২৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১০০ কেজি গরুর মাংস, ড্রেসড ব্রয়লার ৫০ কেজি, খাসির মাংস ১০ কেজি, দুধ ২০০ লিটার ও চার হাজার ডিম বিক্রির কথা রয়েছে। যদিও সব স্থানে এ পরিমাণ পণ্য বিক্রির জন্য নেয়া হয় না। বাজারে তুলনামূলকভাবে দাম বেশি থাকায় দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে সুলভ মূল্যের এসব পণ্য। কোথাও কোথাও দেড় ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে।
২৫টি ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মধ্যে একটি গিয়েছিল গাবতলীতে। গতকাল এ পয়েন্টে ১০০ কেজি গরুর মাংস, ৫০ কেজি ব্রয়লার, ৬০০ ডিম ও ১০০ লিটার দুধ বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১০টার কিছু পরে বিক্রি শুরু করলেও সাড়ে ১১টার মধ্যে এসব পণ্য বিক্রি শেষ হয়। বাজারে এসব পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় অনেক মানুষ ভ্যান থেকে মাংস, ডিম ও দুধ কিনছে।
সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় তরল দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬০০, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৯০০, ড্রেসড ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৫০ ও ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
গাবতলীতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের গাড়িচালক মো. মহিমের সঙ্গে গতকাল কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা ১০টার পরপর বিক্রি কার্যক্রম শুরু করি। আজ খাসি ছিল না আমাদের কাছে। খাসির চাহিদা কম। অন্য পণ্যগুলো সাড়ে ১১টার মধ্যে আমাদের বিক্রি হয়ে যায়। এরপর আমরা চলে আসি। মানুষের অনেক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’
রাজধানীর খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা, খাসি প্রতি কেজি ১ হাজার, তরল দুধ প্রতি লিটার ৯০ ও প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। অর্থাৎ সুলভ মূল্যের বিক্রয় কার্যক্রমে এর চেয়ে কম দামে কিনতে পারছে ভোক্তারা। যদিও চাহিদার চেয়ে পণ্য কম থাকায় অনেকে ফিরে যাচ্ছে।
রাজধানীর রামপুরা বাজারে রয়েছে আরেকটি পিকআপ ভ্যান। সেখানে সাড়ে ১১টার মধ্যে ৪০ কেজি মুরগির মাংস শেষ হয়ে যায়। বিক্রেতা রিফাত জানান, মাত্র ৪০ কেজি মুরগির মাংস দেয়া হয়েছিল, যা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। তেজগাঁওয়ে দুপুরের পর মাংস কিনতে এসে ফিরে যান রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে কম দামে মাংস পাওয়া যায় শুনেছি। কিন্তু এসে কিনতে পারিনি। সব শেষ হয়ে গেছে। মাংসের পরিমাণ আরো বাড়ালে অনেকে কিনতে পারতেন।’
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের এসব বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সুলভ মূল্যের এসব পণ্যে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় পণ্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে এসব পণ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। খামারবাড়িতে মাংস কিনতে আসা শরিফ বলেন, ‘বাজারে গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা কেজি। এখানে ৬০০ টাকায় পাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। দাম অনেকটা সাশ্রয়ী। পণ্যের পরিমাণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। গরু ও খাসির মাংস পরিমাণে দুই কেজি করে দেয়া দরকার।
মোহাম্মদপুরের বসিলার বিক্রেতা মো. রাব্বি খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আজ ১০০ কেজি গরু, তিন কেজি খাসি, ৪০ কেজি মুরগি ও ৯০০ ডিম এনেছিলাম। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আমাদের দেয়া হয়। কখনো কম দেয়া হয়, কখনো বেশি দেয়া হয়।’
সকাল ১০টায় বিক্রি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল খামারবাড়ি পয়েন্টে বিক্রি শুরু হয় ১১টায়। অনেককে কিনতে এসে ১ ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, ‘আমাদের কিছু ড্রেসড ব্রয়লারের ঘাটতি পড়ে গেছে। বিশেষ অর্ডার দিয়ে আনা হয়েছে। সে কারণে একটু দেরি হয়েছে। আর কোথাও এমন সমস্যা হয়নি। এর পর থেকে ঢাকার আর কোথাও দেরিতে গাড়ি যাবে না।’
সুলভ মূল্যের বিক্রি কার্যক্রমে সহায়তা করছে বাংলাদেশে ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সব পণ্যের দাম বিভিন্ন কারণে বেড়েছে। অথচ আমরা গত বছরের চেয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছি। গত বছর গরুর মাংস ৬৪০ টাকা কেজি ছিল। এবার তা ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যেন দাম কম থাকে সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। করোনার সময়ই আমরা এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
আগামী বছর থেকে আরো বড় পরিসরে আয়োজনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর ২০টি পয়েন্টে দুই হাজার কেজি গরুর মাংস বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার ৩০ পয়েন্টে পাঁচ হাজার কেজি গরুর মাংস বিক্রি করছি। চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করছি আগামী বছর আরো বাড়ানোর। বাজারে দাম বেশি, এ কারণে মানুষ এখান থেকে কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।’
রাজধানীর মোট ২৫টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), গাবতলী, দিয়াবাড়ী (উত্তরা), জাপান গার্ডেন সিটি (মোহাম্মদপুর), ৬০ ফুট রোড (মিরপুর), খিলগাঁও (লেভেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণে), সচিবালয়ের পাশে (আবদুল গনি রোড), সেগুনবাগিচা (কাঁচাবাজার), আরামবাগ (মতিঝিল), রামপুরা, কালশী (মিরপুর), যাত্রাবাড়ী (মানিকনগর গলির মুখে), নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), বছিলা (মোহাম্মদপুর), হাজারীবাগ (শিকশন), লুকাস (নাখালপাড়া), কামরাঙ্গীর চর, মিরপুর ১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়া), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার) ও কাকরাইল। আর স্থায়ী পাঁচটি বাজারের মধ্যে রয়েছে মিরপুর শাহ আলী বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নতুন বাজার (১০০ ফুট), কমলাপুর ও কাজী আলাউদ্দিন রোড (আনন্দবাজার)।