করোনা মহামারীর ফলে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তিন হয়েছে। শহর ছেড়ে একদল নিম্নবিত্ত মানুষ ইতোমধ্যে গ্রামে চলে গেছেন। এমনকি মধ্যবিত্তের একটি অংশও গ্রামে চলে গেছে। হঠাৎ কাজ হারানো এই জনগোষ্ঠীকে ‘নয়া গরীব’ (নিউ পুর) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্রাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, ‘এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।’
শনিবার সকালে অনুষ্টিত আন্তর্জাতিক এক কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফাইন্যান্স বিভাগের আয়োজনে ‘পল্লী উন্নয়নে অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ওয়েবিনার (ওয়েব সেমিনার) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ছয় শতাধিক গবেষক, প্রতিনিধি দিনব্যাপী এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন।
উদ্ভূত এই পরিস্থির বিবেচনায় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান নীতি নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাবনা পেশ করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ফসল ও ক্ষেতের দিকে জোর না দিয়ে কৃষকের স্বাস্থ্য, দক্ষতা ও শিক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে। সামগ্রিক পল্লী উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে পল্লী উন্নয়নের দিকে জোর দিতে হবে। দেশের যে অঞ্চলে যে ধরনের আবহাওয়া তার সাথে খাপ খায় এমন উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। করোনা পরবর্তী গ্রামীণ অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক (গ্রোথ ড্রাইভার) হতে পারে। দক্ষতা ও প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্মার্ট’ বিনিয়োগ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও কনফারেন্স কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুরের সঞ্চালনায় এতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান। কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কেএম গোলাম মহিউদ্দীন ও চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যপক এসএম সালামত উল্যা ভূঁইয়া। এতে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক মূখ্য সচিব ও পিকেএসএফ এর নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুল করিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমএ বাকী খলিলী।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. শিরীণের পক্ষে উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, ‘ফাইন্যান্স বিভাগ দ্বিতীয়বারের মত আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করছে। মহামারির দূর্যোগপূর্ণ এই সময়ে এ ধরণের সেমিনার আয়োজন অত্যন্ত সময় উপযোগী। সেমিনারে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এবং বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাবেক মূখ্য সচিব মো. আবদুল করিম বলেন, ‘গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এখন পল্লী উন্নয়নের ক্ষেতে এই বিষয়ে জোর দেয়ার সময়ে এসেছে। এছাড়া কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভর্তুকী প্রদানের বিষয়টাও বিবেচনায় রাখতে হবে।’
কনফারেন্সে আরো অংশ নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও চবি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, ভারতের নর্থ ইস্টার্ণ হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জয়নাল উদ্দিন আহমেদ, জাপানের রিটসুমিকান এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনিম কুমার বড়াল, ভারতের মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী ইবাল ম্যালতেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইয়া, ভারতের নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অজিত কুমার রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আইয়ুব ইসলাম প্রমুখ।