বিদ্রোহীদের নিয়ে চাপে বিএনপি তুলনামূলক স্বস্তিতে জামায়াত

খুলনা বিভাগের প্রধান নির্বাচনী আসনগুলোয় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপির নির্বাচনী মাঠকে অনেকটাই জটিল করে তুলেছে।

খুলনা বিভাগের প্রধান নির্বাচনী আসনগুলোয় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপির নির্বাচনী মাঠকে অনেকটাই জটিল করে তুলেছে। বিভাগের অন্তত ১২টি আসনে সরাসরি বা ত্রিমুখী লড়াই দেখা দিতে পারে, যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই ফল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। অন্যদিকে অনেকটাই স্বস্তিতে জামায়াতের প্রার্থীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ৩৬টি আসনে মোট ২০৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রায় সব আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। এর মধ্যে বিভাগের ১৮টি আসনে বিএনপি ও ১৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও খুলনার বেশকিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন আলোচনায়। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার মতো জেলাগুলোয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপির ভোট ভাগ হলে জামায়াতের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করছেন ভোটাররা। ফলে সংখ্যা অনুযায়ী অধিক আসনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও বিএনপি এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে, আর জামায়াত তুলনামূলকভাবে রয়েছে স্বস্তিতে।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপি থেকে অন্য প্লাটফর্মে যাওয়া স্বাধীন প্রার্থী এসএম আরিফুর রহমান মিঠুর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তার ব্যক্তিগত ভোটভিত্তি, বিশেষ করে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের সমর্থকদের মধ্যে, কিছুটা প্রভাবশালী হতে পারে। তবে মূল লড়াই এখনো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। অন্যান্য আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সরাসরি প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং বেশির ভাগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি-জামায়াতের মধ্যেই নির্ধারিত।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। বাগেরহাট-১ আসনে জেলা বিএনপি নেতা মাসুদ রানা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার জন্য ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা বেড়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাকে সমর্থন দিয়েছে, যা দলের ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা আরো বাড়াচ্ছে। বাগেরহাট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন।

বাগেরহাট-৪ আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ আসনে বিদ্রোহীদের উপস্থিতি জামায়াতকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রাখছে।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল) মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার শক্ত অবস্থান বিএনপির ভোট বিভাজন করতে পারে, যা জামায়াতের প্রার্থীর জন্য সুবিধা তৈরি করবে।

যশোর-৫ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, যা ভোট ভাগ করে দিতে পারে এবং জামায়াতের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। মণিরামপুরে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দু ভোটাররা ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

নড়াইল-২ আসনে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন। অফিশিয়াল বিএনপি প্রার্থী এখনো সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি। অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ভোট বিভাজনের কারণে জামায়াতের সুবিধা হতে পারে।

কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. নুরুজ্জামানের উপস্থিতি দলীয় ভোট ভাগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। কুষ্টিয়া-২ ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া দুই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এখনো স্পষ্টভাবে অনুসারীদের কাকে সমর্থন করতে বলবেন তা নির্ধারণ করেননি, ফলে এখানকার বিএনপি প্রার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরও