সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬ এর ষষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। দেশের উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার শাসনামলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি রণাঙ্গনে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে নানা উদ্যোগ নেন।
রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে মতের ভিন্নতা যেন পারস্পরিক অসম্মান বা অশালীন বক্তব্যে পরিণত না হয়। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম। এতে আরো বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকনসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বইমেলায় রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।