দেশের সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ঐতিহ্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নির্মাণ করা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি। উপজেলার রাংরাপাড়া গ্রামে ২০১৩ সালে একাডেমির নির্মাণকাজ শুরু হলেও শেষ হয় ২০১৮ সালে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরুই হয়নি ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একাডেমির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সরঞ্জাম। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশগুলোও অকেজো হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে সংস্কৃতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে একাডেমি ভবনটি নির্মাণ করা হয়। একাডেমিতে রয়েছে আধুনিক মঞ্চায়ন উপযোগী শব্দ, আলোক ও অ্যাকুয়েস্টিক ব্যবস্থাসহ ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি মিলনায়তন। এছাড়া ৫০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ ও একটি প্রশিক্ষণ ভবনও রয়েছে। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর একাডেমির উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর কার্যক্রম পরিচালনা না হওয়ায় অনেক কিছুই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নলকূপটি চুরি হয়ে গেছে। কাঁচের জানালাগুলো ভেঙে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৬ সালে রাংরাপাড়া গ্রামে এক একর ৮০ শতক জমি ক্রয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের নির্দেশে জমি অধিগ্রহণ না করেই একাডেমি ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কাগজে-কলমে জমির মালিক ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। বর্তমানে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম একাডেমির একটি অফিস কক্ষে পরিচালনা করছে।
উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ভদ্র ম্রং বলেন, ‘উদ্বোধনের কিছুদিন পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকেই এটি আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটির কোনো কার্যক্রম নেই। আগাছা উঠে চারপাশে জঙ্গলে ভরে গেছে। একাডেমির বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে আমরাও শঙ্কায় রয়েছি। এটি চালু হলে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচার সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে। এটি ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের জায়গা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আমাদের একাডেমির দুটি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন।’
রাংরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক যোসেফ হাউই বলেন, ‘উদ্বোধনের পরই আমাদের বিদ্যালয়ে একাডেমি থেকে একজন প্রোগ্রামার আসছিলেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই যেন কালচারাল বিষয়টি চর্চা হয় সে বিষয়ে পরামর্শ দেন। আমাদের বিদ্যালয় থেকে আদিবাসী কিছু শিক্ষার্থী নাম রেজিস্ট্রেশনও করেছিল। কিন্তু পরে সে প্রোগ্রামটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো কর্মকর্তাকেও আর দেখা যায়নি।’
এ ব্যাপারে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান বলেন, ‘এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কার্যক্রম যেন শুরু করা হয় সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব। এটি চালু হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ও তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে মূল স্রোতধারায় সমৃদ্ধকরণে কাজ করবে।’