আর্থিক সংকটে পড়ে সম্প্রতি ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেয় দেশের অন্যতম একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। এতে চাকরিচ্যুত হন ওই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তালা দেয়া ও অবস্থান ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুতরা। ওই চ্যানেলটির মতো না হলেও দেশের অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও আর্থিক এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অনুষ্ঠান নির্মাণে ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মীর সংখ্যাও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওগুলোর আয়ের বড় উৎস বিজ্ঞাপন। গত এক দশকে বিজ্ঞাপনের বাজারের তুলনায় এ খাতে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে অনেক বেশি। বর্তমানে সব মিলিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওর লাইসেন্স রয়েছে ৮০টির বেশি। সম্প্রতি তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিনটি নতুন বেসরকারি টেলিভিশনকে। লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি। দেশে এত টেলিভিশন-রেডিও থাকার পরও বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী চ্যানেল ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। এতে আয়ের বড় একটা অংশ হারাচ্ছে টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওগুলো। শুধু বিজ্ঞাপন নয়, দর্শক-শ্রোতাও হারাচ্ছে দেশীয় এসব রেডিও-টেলিভিশন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বাবদ বছরে ৪০০ কোটি টাকার বেশি দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এর সিংহভাগই যাচ্ছে অবৈধভাবে। দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়লেও বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে বাজার ছোট হয়ে এসেছে।
বিজ্ঞাপনের জন্য প্রচলিত মাধ্যম হিসেবে সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনই এতদিন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বেশি জনপ্রিয় ছিল। তবে সেলফোন সেবার প্রসারের পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ক্রমেই সুলভ ও সহজলভ্য হয়ে ওঠায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। দেশে বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সেলফোন অপারেটর, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় বড় ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো। এ খাতে প্রতি বছর বিপণন ও প্রচারণা বাবদ ব্যয়ের ১০-১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোক্তা এখন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। শুধু ফেসবুক নয়, জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও ইয়াহু, ভিডিও কনটেন্ট প্রোভাইডার ইউটিউব, কিংবা ওয়েবসাইট র্যাংকিং ও অ্যানালিটিক প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সায় বিপুল অর্থ ব্যয় করছে তারা। কোনো ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই দেশ থেকে বিপুল অংকের এ অর্থ আয় করছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৈশ্বিক জায়ান্ট এসব প্রতিষ্ঠান। ফলে খাতটি থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকারও। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছর থেকে এ