ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২৯তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। তিনি বর্তমানে ঢাবির উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে সাময়িকভাবে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদুল আলম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হবে।
ড. এএসএম মাকসুদ কামাল দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগে অধ্যাপনা করে আসছেন। উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এখন থেকে তাকে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। এ পদে থাকাকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। এছাড়া বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।
আগামী ৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের মেয়াদ শেষ হবে। এর পরদিন ৪ নভেম্বর থেকে ড. এএসএম মাকসুদ কামালের নিয়োগ কার্যকর হবে। ১৯৯৮ সালে তিনি নেদারল্যান্ডসের টোয়েন্টে ইউনিভার্সিটি থেকে ‘অ্যাপ্লায়েড জিওমরফোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং জিওলজি’ বিষয়ে মাস্টার্স করেন। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব¡ বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ২০১০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
২০০৪ সালে টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ‘আর্থকোয়াক ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন মাকসুদ কামাল। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তার ৬৫টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত প্রবন্ধ, রিপোর্ট, বুক চ্যাপ্টারসহ তার ১০০টির বেশি গবেষণাকর্ম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে (স্পারসো) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে প্রায় ছয় বছর কর্মরত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি, চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি, জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটিসহ পৃথিবীর নানা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিনি জ্ঞান ব্যবস্থাপনা ও গবেষণাসংক্রান্ত কাজ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আগে তিনি আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভূমিকম্প ও সুনামি এবং নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইউএনডিপি/সিডিএমপি, বাংলাদেশের প্রকল্পে চার বছর কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। টানা চারবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।