রংপুরে বীজআলু উদ্বৃত্ত থাকলেও কারসাজির শঙ্কা কৃষকের

চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে।

চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এজন্য বীজের প্রয়োজন ৮৭ হাজার ৭৫০ টন। জেলার কোল্ডস্টোরেজগুলোয় গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বীজআলু সংরক্ষিত রয়েছে ৯২ হাজার ১০৯ টন। সে হিসাবে উদ্বৃত্ত বীজ রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৯ টন। তবে সরকারিভাবে কঠোর মনিটর না করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আলুবীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, যাতে বাজারে খাবার আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৩৫ টাকা প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হলেও বেশি দামে আলু বিক্রির অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। আসলে কঠোরভাবে মনিটর না করলে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা বীজআলুর দাম বাড়ানোর কূটকৌশলের আশ্রয় নিতে পারেন।’

বাজারে আলুর দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রুখতে সরকার খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা বেঁধে দিলেও বাজারে প্রভাব পড়েনি। এখন প্রতি কেজি আলু ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা করে। এমনকি রংপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ট্রাকে করে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা দরে বিক্রি শুরু করেও লাভ হয়নি। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এমন বাস্তবতায় জেলায় এক সপ্তাহের মধ্যে আগাম আলু চাষ শুরু করবেন কৃষক। অবশ্য কোনো কোনো জেলায় আগাম আলু চাষ শুরু হয়ে গেছে এরইমধ্যে।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩৫৪ টন।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৯টি কোল্ডস্টোরেজে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আলু সংরক্ষিত আছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২ টন। এর মধ্যে বীজআলু সংরক্ষিত আছে ৯২ হাজার ১০৯ টন। এসব কোল্ডস্টোরেজের ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৬ হাজার ৩১৫ টন। চলতি মৌসুমে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টন। গত বছরের (২০২২) ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টন। এর মধ্যে বীজ আলু ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ২৩৯ টন। যেহেতু গত বছরের চেয়ে ২৬ হাজার ১৩০ টন কম আলুবীজ সংরক্ষণে আছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন আলু চাষীরা।

বিএডিসি (বীজ বিপণন) রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন মূল আলুর দাম নির্ধারিত হয়নি। শুধু আগাম আলুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এক একর জমিতে এ গ্রেড আলু ৬৪০ কেজি এবং বি গ্রেড আলু ৭২০ কেজি বপন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়।’

পাহাড়ি ঢল এবং অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম আলু চাষে কিছুটা সমস্যা হলেও আগামী জানুয়ারি মাস থেকে বাজারে আগাম আলু আসা শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষক। তবে বীজ সংকট না হলেও বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা, সারের দাম বাড়াসহ বিভিন্ন কারণে আলুর উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন কৃষকরা।

আরও