বরিশালে আধুনিক সাইলো

ছয় মাস আগে নির্মাণ শেষ হলেও খাদ্যশস্য সংরক্ষণই শুরু হয়নি

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় যেকোনো দুর্যোগে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা ও দীর্ঘদিন মজুদ রাখতে আধুনিক সাইলো নির্মাণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় যেকোনো দুর্যোগে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা ও দীর্ঘদিন মজুদ রাখতে আধুনিক সাইলো নির্মাণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালের ২২ জুন স্থাপনাটির কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে প্রায় ছয় মাস। প্রকল্পের ওয়ারেন্টি সময়ও শেষ হওয়ার পথে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত খাদ্যশস্য সংরক্ষণই করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকায় ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাইলোতে তিন বছরের জন্য ৪৮ হাজার টন চাল সংরক্ষণ করা যাবে। যেকোনো দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় এটি সহায়ক হবে।

এ ব্যাপারে সাইলোর ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসনাইয়েন বলেন, ‘ডিসেম্বরে আমরা সরকারকে প্রকল্প বুঝে নিতে চিঠি দেয়ার পর থেকেই ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শুরু হয়েছে। এটি এখন চলছে। সরকার এটি চালু করলে ওয়ারেন্টির সুবিধা পেত। তাছাড়া প্রকল্প থেকে দেয়া নিরাপত্তাকর্মীদের মেয়াদও গত মে মাসে শেষ হয়ে গেছে। এখনো সরকার থেকে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ অবস্থায় বড় এ প্রকল্প নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক খাদ্য মজুদের ক্ষেত্রে সাইলো হবে বাড়তি শক্তি। খরা, ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের পর খেতে ফসল ওঠা পর্যন্ত সাইলোর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। সর্বোচ্চ ৫০ জন জনবলে চলবে এটি। এত বড় প্রকল্পের সব কাজ শেষ হওয়ার পরও হস্তান্তর না হওয়ায় থমকে গেছে সব কার্যক্রম। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের সাইলোবিষয়ক দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত চালের ব্যবস্থা না থাকায় এরকমটা হচ্ছে। এরই মধ্যে খাদ্য বিভাগের কিছু জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। চালের জোগানও এখনো নিশ্চিত নয়।

সাইলোর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পের কোনো কাজ বাকি নেই। ডিসেম্বর থেকে আমরা সাইলো হস্তান্তরের জন্য চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছি না। হয়তো দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত চালের মজুদ না থাকায় বিলম্ব করছে সরকার। কিছু লোককে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আরো লোক পাঠাতে বলেছি। সরকার হস্তান্তরে বিলম্ব করায় গত চার মাস থেকে আমাদের বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে। কবে এটা হস্তান্তর হবে তাও বোঝা যাচ্ছে না।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য সংরক্ষণাগারে একসঙ্গে ৪৮ হাজার টন চাল মজুদ রাখা যাবে। ১৬টি বিনের মাধ্যমে চাল সংরক্ষণের পর জরুরি চাহিদার সময় ১১টি মেশিনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৭৬ টন চাল প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করা যাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে পাঁচ ও ৫০ কেজি চাল। দুর্যোগে বরিশালের ছয় জেলায় দ্রুত তা সরবরাহ করা যাবে নৌ ও সড়কপথে।

এ ব্যাপারে সাইলোর অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও যতদিন পর্যন্ত আমরা এটি হস্তান্তর করতে না পারছি, ততদিন আমাদের এখানে থাকতে হচ্ছে। মেশিনগুলো ঠিক রাখতে প্রতিনিয়ত ট্রায়াল দিতে হচ্ছে। আমরা সরকারের দেয়া জনবলকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যাতে সরকার চাইলেই আমরা দ্রুত হস্তান্তর করতে পারি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

বরিশাল খাদ্য বিভাগ থেকে ১৫ জন কর্মীকে সাইলোর কাজে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে কয়েজনকে প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। তবে তারা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য আনসার চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানান খাদ্য বিভাগের কর্মীরা।

তারা বলছেন, খাদ্য বিভাগ থেকে আমাদের এখানে সংযুক্তি দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা এর অপারেশনাল কাজ শিখছি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ এলে আমরা সবকিছু বুঝে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারব। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে খাদ্য বিভাগের ১৫ জন কর্মী এখানে সংযুক্তিতে আছেন। নিরাপত্তার জন্য এক প্লাটুন আনসার চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আনসার নিয়োগ না দেয়ায় আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে বরিশাল খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরিশালে নির্মিত সাইলোটি সারা দেশে চতুর্থ। এমন আদলে রয়েছে ছয়টি সাইলো। খাদ্য সংরক্ষণাগারটি এ অঞ্চলে দুর্যোগের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

আরও