চাঁদপুরে চার বছরেও লঞ্চঘাট নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ঘাটে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় যাত্রীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে লঞ্চঘাট এলাকা ঘুরে আজ এমন চিত্র দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা ঘাটে নেমে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। ঘাটের পল্টুনের সঙ্গে যুক্ত সিঁড়িগুলো অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় উঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ঘাটে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। ফলে যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু ও পরিবার নিয়ে আসা যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
লঞ্চ থেকে নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অটোবাইক চালকদের টানাটানি এবং কুলিদের বিশৃঙ্খল আচরণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এতে যাত্রীদের অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
জানা গেছে, লঞ্চঘাটের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ঈদ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু সংস্কার কাজ করলেও তাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমেনি।
ঢাকাগামী এক যাত্রী জানান, লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও কোনো বিশ্রামের জায়গা নেই। খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাবে পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আরেক যাত্রী বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ ঘাটে নেমেই নষ্ট হয়ে যায়। কুলি ও যানবাহন চালকদের টানাটানিতে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
অন্য একজন যাত্রী বলেন, লঞ্চে ভ্রমণ সাধারণত নিরাপদ হলেও ঘাটের অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসএম ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ঈদের পরেও এ কার্যক্রম চালু থাকবে।
চাঁদপুর নৌ বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, নির্মাণকাজ চলমান থাকায় অস্থায়ী ঘাট দিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, লঞ্চঘাটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে যাত্রীসেবা উন্নত করার চেষ্টা চলছে।