বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে মাঠে লড়াই শেষে প্রথমবারের মতো পৈতৃক বাড়ি শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসুরের সোম বাড়িতে ফিরলেন শমিত সোম। তার আগমন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। গতকাল সকাল থেকে বাড়ির সামনে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে বরণ করে নেন এলাকাবাসী।
বাড়ি ফিরে আবেগাপ্লুত শমিত সোম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর সে খেলার পর নিজের মানুষের ভালোবাসা সত্যিই অন্য রকম অনুভূতি। ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের এ জয় সহজ ছিল না। মানুষ অনেক খুশি হয়েছে। আমারও ভালো লাগছে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে, কারণ আমাদের টিম এখন খুব ভালো। সবার সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। নতুন অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে এবং ওরা বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ। বাফুফেও আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শমিত সোম বলেন, ‘জাতীয় দলে খেলার পর এটাই প্রথম বাড়িতে আসা। ক্লান্ত লাগছে, তবে সবার ভালোবাসায় মন ভরে গেছে। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো আমাদের জন্য বিশেষ সাফল্য। দলের সবাই বিশ্বাস রেখেই খেলেছিল, তাই জয় এসেছে।’
তার আগমনে উচ্ছ্বসিত পরিবারের সদস্যরাও। শমিত সোমের কাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন সোম বলেন, ‘শমিতকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশের হয়ে ভারতকে হারাবে। সেটি রক্ষা করতে পেরেছে, তবে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক। আমরা দল জেতার জন্য অনেক প্রার্থনা করেছি। আমরা শমিতকে কাছে পেয়ে অনেক খুশি। উৎসব চলছে আমাদের পরিবারে।’
শমিতের পিসি শান্তা বিশ্বাস বলেন, ‘ম্যাচ জেতার পর থেকে পুরো বাড়িতেই আনন্দের বন্যা বইছে। উত্তেজনায় রাতে কেউ ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার ভাতিজা খেলায় বিজয় এনে দিয়েছে—এটা আমাদের পরিবারের জন্য বিশাল গর্ব। ওর জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন।’