এসব লিকেজের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) সাম্প্রতিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিজিডিসিএলের পরিচালনা ও বিতরণ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্যাস পাইপলাইনগুলো ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকের আঙিনা ও বাসাবাড়িতে থাকা জিআই পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে বাতাসে মিশছে।
কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গ্রাহকদের দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ছয় মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৯-১০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ ও চাহিদার এ ব্যবধানের প্রায় তিন-চার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অনাকাঙ্ক্ষিত লিকেজের মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিকেজ শনাক্ত ও মেরামতে বিজিডিসিএলের দুটি দল মাঠে কাজ করছে। একটি দল গ্রাহকদের বাসাবাড়ির জিআই লাইন পরীক্ষা করে লিক শনাক্ত হলে গ্রাহককে চিঠি দিচ্ছে। তালিকাভুক্ত ‘এএনডিসি’ ঠিকাদারের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে দ্রুত লাইন মেরামতের জন্য তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্য দলটি সড়কের ৪০ বছরের পুরনো এমএস পাইপলাইনের লিকেজ ও ত্রুটি শনাক্ত করে নিজ দায়িত্বে সংস্কার করছে।
তবে বাসাবাড়ির হাউজ লাইনের ছিদ্র মেরামতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অনীহা দেখা যাচ্ছে। যেহেতু আবাসিক গ্রাহকরা ডাবল চুলার জন্য ফিক্সড রেটে প্রতি মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল পরিশোধ করেন, তাই নতুন করে টাকা খরচ করে নিজস্ব পাইপলাইন মেরামত করতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না।
গ্রাহকদের এ মানসিকতা বদলে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রকৌশলী শফিকুল হক বলেন, ‘লিকেজের মাধ্যমে বের হওয়া গ্যাস জাতীয় সম্পদ ও অর্থের অপচয়। গ্রাহকদের নিজ উদ্যোগে দ্রুত লাইন মেরামত করে এ অপচয় বন্ধে সহযোগিতা করতে হবে।’
এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।