২০ বছর পরও খুবই সীমিত পরিসরে ব্যবহার হবে পায়রা বন্দর

বিপুল অর্থ ব্যয়ে পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াও অ্যাপ্রোচ চ্যানেলে বড় ধরনের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন পড়বে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেজিংও করতে হবে। জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) মতে, এজন্য ব্যয় হবে বছরে আরো ৩০-৫০ কোটি ডলার। বিপুল এ অর্থ ব্যয়ের পরও খুবই সীমিত পরিসরে ব্যবহার হবে বন্দরটি। ২০৪১ সালে পায়রা বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হবে সাড়ে পাঁচ লাখ টিইইউএসেরও কম। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানেই বার্ষিক ২৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার পরিবহন হয়। আর ২০৪১ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৯ লাখ টিইইউএস।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াও অ্যাপ্রোচ চ্যানেলে বড় ধরনের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন পড়বে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেজিংও করতে হবে। জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) মতে, এজন্য ব্যয় হবে বছরে আরো ৩০-৫০ কোটি ডলার। বিপুল এ অর্থ ব্যয়ের পরও খুবই সীমিত পরিসরে ব্যবহার হবে বন্দরটি। ২০৪১ সালে পায়রা বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হবে সাড়ে পাঁচ লাখ টিইইউএসেরও কম। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানেই বার্ষিক ২৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার পরিবহন হয়। আর ২০৪১ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৯ লাখ টিইইউএস।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর চূড়ান্ত সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে জাইকা। ওই প্রতিবেদনে পায়রাসহ মাতারবাড়ী ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের তুলনামূলক প্রাক্কলন করেছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে কনটেইনার পরিবহন হবে ৩৪ লাখ ৯ হাজার টিইইউএস। ওই সময় পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পরিবহন হবে মাত্র ৪ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ টিইইউএস। বরং পায়রার চেয়ে মাতারবাড়ীতে কনটেইনার পরিবহন হবে বেশি, ৯ লাখ ৯৯ হাজার টিইইউএস।

তিনটি আলাদা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েও সমীক্ষার তথ্যে সামগ্রিক চিত্রটি একই রকম দেখা যায়। এমনকি এ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে ২০৪১ সাল নাগাদও। সে নাগাদ তিনটি বন্দরে পণ্য পরিবহন বাড়লেও অবস্থানের পরিবর্তন হবে না বলে জাইকার সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে। ২০৪১ সালে ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে চট্টগ্রাম বন্দর। ওই সময় মাতারবাড়ীর মাধ্যমে ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৯ টিইইউএস ও পায়রার মাধ্যমে মাত্র ৫ লাখ ৪৬ হাজার ২২৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে।

সমুদ্রপথে কনটেইনারে পণ্য আমদানি-রফতানির ৯৮ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাকি ২ শতাংশ হয় মোংলা বন্দর দিয়ে। এ হিসাবে পণ্য আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীদের চট্টগ্রাম বন্দরের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

আগামীতেও এ নির্ভরতা থাকবে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের জন্য ইপিজেড প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মূলত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই পরিচালিত হবে। এছাড়া ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোসহ নেপাল ও ভুটানের জন্যও চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থানগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও