পাটুরিয়া ঘাটে শেষ হয়নি সংস্কার, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশংকা

সরেজমিন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল থেকে পাটুরিয়ার তিনটি ঘাটেই সংযোগ সড়কের খাড়া ঢাল স্বাভাবিক করার জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সমান করছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে যানবাহন ফেরিতে উঠতে-নামতে বিলম্বিত হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে ভোগান্তি আরো বাড়ার আশংকা করছেন যাত্রীরা

ঈদের বাকি আর কয়েক দিন। অথচ এখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে পাটুরিয়া ফেরিঘাট, সম্পন্ন হয়নি ঘাটের সংস্কার কাজ। অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া থাকার কারণে যানবাহন ওঠানামায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়লে ফেরি পারাপারে দুর্ভোগ বাড়ার শংকা করছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। ঈদ উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়ে কয়েকগুণ। ঈদযাত্রায় পারাপার নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে প্রতি বছরই ঘাট কর্তৃপক্ষ নানান ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নেয়। এবার তেমন কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি।

গত বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে যায় পাটুরিয়ার পাঁচটি ঘাট। পারাপারে ভোগান্তিতে পড়ে যানবাহন ও যাত্রীরা। ভাঙনের প্রায় ৬ মাস পার হলেও এখনো পুরোপুরি মেরামত হয়নি ঘাটগুলো। কোনরকম জোড়াতালি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন।

ছবি: বণিক বার্তা

সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া থাকার কারণে যানবাহন ফেরি থেকে ওপরে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই বিকল হয়ে পড়ে। পরে রেকার দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিকল যানবাহনকে টেনে তোলা হয়। এতে যানবাহন পারাপারে দেরি হয়। ঘাট এলাকায় তৈরি হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

যানবাহনের ভুক্তভোগী চালকরা জানান, সড়ক অতিরিক্ত খাড়া হওয়ায় ফেরি থেকে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন সংযোগ সড়কে আটকে পড়ে। এতে মাঝে মধ্যে ব্রেক ফেল হয়ে যানবাহনটি পেছনে পন্টুনে গিয়ে ঠেকে যায়। মাঝে মধ্যে নদীতেও পড়ে যায়।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাটে শাহ মাখদুম ফেরি থেকে নামতে গিয়ে একটি জ্বালানি তেলবাহী দশ চাকার লরি সংযোগ সড়কে থেমে যায়। পরবর্তীতে লরিটি ব্রেক কন্ট্রোল করতে না পেরে পিছিয়ে এসে নদীতে পড়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম আবদুস সালাম বলেন, নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে। এতে সংযোগ সড়কগুলো বেশ খাড়া হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত যানবাহন ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। তবে সংযোগ সড়কের ঢাল কমানোর জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে তারা একাধিকবার জানিয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ঘাটগুলো সচল থাকলে পারাপারে সমস্যা হবে না বলে আশা করেন তিনি।

ছবি: বণিক বার্তা

এদিকে সরেজমিন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল থেকে পাটুরিয়ার তিনটি ঘাটেই সংযোগ সড়কের খাড়া ঢাল স্বাভাবিক করার জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সমান করছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে যানবাহন ফেরিতে উঠতে-নামতে বিলম্বিত হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে ভোগান্তি আরো বাড়ার আশংকা করছেন যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে তিনটি ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো সমান করার কাজ শুরু হয়েছে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই অতিরিক্ত খাড়া সড়কটি স্বাভাবিক করা হবে।

পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের অবস্থাও খারাপ। পদ্মার প্রবল স্রোতে গত আগস্টে একমাত্র লঞ্চঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে পাটুরিয়ার দুই নম্বর ফেরিঘাটের পাশে পন্টুন বসিয়ে কোনমতে যাত্রী পারাপার শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাটের পন্টুনে নামার অ্যাপ্রোচ সড়কটি খাড়া থাকায় ওঠানামায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

আরও