টানা বৃষ্টি

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে তিনদিনে ২০ জনের প্রাণহানি

কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এদিন বিকাল ৩টার দিকে ক্যাম্প-৫-এর এ-৭/৩ ব্লকে খদিজাতুল কোবরা নুরানী ও হেফজখানার পাশের পাহাড় ধসে পড়লে মাটিভাপা পড়ে ৭ ছাত্রী ও এক শিক্ষক নিহত হয়।

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনদিনে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায়। এছাড়া সদর উপজেলার সাত্তারঘোনা, দরিয়ানগর, উখিয়া ও পেকুয়ায় আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন অবস্থায় জেলার পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত লাখো মানুষ রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।

কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এদিন বিকাল ৩টার দিকে ক্যাম্প-৫-এর এ-৭/৩ ব্লকে খদিজাতুল কোবরা নুরানী ও হেফজখানার পাশের পাহাড় ধসে পড়লে মাটিভাপা পড়ে ৭ ছাত্রী ও এক শিক্ষক নিহত হয়।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলো শাহিদা (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), ওমাইচা বিবি (১৩) ও রাশিদা (১৬)। আহত হয়েছে আসরা (৯), বেগম জান (১৫), ফারেসা বিবি (১২), জান্নাত আরা বিবি (৮), নূর ফাতেমা (১০), নুর সেহেরা (১২), আব্দুল মোনাফ (১৭) ও নূর কায়েস (১০)। তাদের মধ্যে কয়েকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, জিকে হাসপাতাল ও ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় ধসের পর উদ্ধার হওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সাদেক জানান, ঘটনাস্থলে মেয়েদের একটি মাদ্রাসা এবং তার ওপরে একটি মক্তব ছিল। মাটি ভরাট করে নির্মিত মাদ্রাসাটির পাশের পাহাড় টানা বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে পাহাড়ের ঢাল ধসে ভবনটির ওপর পড়ে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, আমরা এখন পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানতে পেরেছি। উদ্ধার কাজ চলছে, তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এর আগের দিন সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে আটজন নিহত হন। এর মধ্যে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড় ধসে নিহত হন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। একই রাতে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে নিহত হন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।

এছাড়া এই তিনদিনে কক্সবাজার সদর উপজেলার সাত্তারঘোনা, দরিয়ানগর, উখিয়া ও পেকুয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিকূল আবহাওয়া আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। ইউএনও, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তাসহ একাধিক টিম মাঠে রয়েছেন। সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আরও