রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাহফুজার রহমানকে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নিয়োগের দুদিন পরই তার পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক, কর্মচারী ও ছাত্র-জনতার ব্যানারে গতকাল তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বর্জন করা হয় ক্লাস-পরীক্ষা। দুদিন ধরে চলা এ আন্দোলনে মেডিকেল কলেজে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
অধ্যক্ষের কক্ষে একটি ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘শহীদ আবু সাঈদের পোস্টমর্টেম বিকৃতির অপচেষ্টাকারী স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগী ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল মাহফুজার রহমানের ঠিকানা এ ক্যাম্পাসে হবে না।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার হুমকি দিতেন ডা. মাহফুজার রহমান। আবু সাঈদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিকৃত করার চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহফুজার রহমান বলেন, ‘আন্দোনকারীরা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে লেগেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে যাব। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি তা মেনে নেব। আমার যোগ্যতা থাকার পরও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অন্য দুজনকে অধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আমাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছিল। তবে আমি সেখানে যোগদান করিনি।’
আন্দোলনের মুখপাত্র ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. হাসান আলী জানান, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার হুমকি দিতেন।
তবে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে যোগদান থেকে বিরত রয়েছেন ডা. আনোয়ার হোসেন। নবনিযুক্ত অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা ভঙ্গের অভিযোগও করেন তিনি। ডা. আনোয়ার বলেন, ‘ডা. মাহফুজার রহমান জ্যেষ্ঠতা ভঙ্গ করে উপাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। এখন তার অধ্যক্ষ হওয়ার যোগ্যতা নেই।’