পাট চাষে ফিরছে সুদিন

খাল খননে কমেছে পরিবহন ব্যয়

আগে পাট জাগ দিতে ৮-১০ কিলোমিটার দূরের জলাধারে নিয়ে যেতে হলেও এবার কাছাকাছি খালেই সে সুযোগ মিলছে।

সরকারের খনন করা খালে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুর্ভোগ কমেছে দেশের বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরের চাষীদের। আগে পাট জাগ দিতে ৮-১০ কিলোমিটার দূরের জলাধারে নিয়ে যেতে হলেও এবার কাছাকাছি খালেই সে সুযোগ মিলছে। এতে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় কমেছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত পানিতে পাট জাগ দেয়ায় আঁশের রঙ ও গুণগত মানও ভালো হয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এ জেলার পাটচাষীদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদি, সাতৈর, বড়গাঁ, ময়েনদিয়া, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেড়িরহাট, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর, নগরকান্দা উপজেলার তালমা ও ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে জাত ও মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ বাজারদর বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদিত পাটের সম্ভাব্য বাজারদর ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টন পাট উৎপাদন হবে। দর স্বাভাবিক থাকলে পাট থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে এবার প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭২ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকরা।

চাষীরা জানান, বিগত বছরগুলোয় পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় আঁশের রঙ নষ্ট হয়ে যেত। ফলে পাটের ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হতেন তারা। তবে এ বছর খনন করা খালে পর্যাপ্ত পানি থাকায় সেই দুর্ভোগ কেটেছে। পাটের ফলন, রঙ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, পাট জাগ দেয়ার সময় খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের রঙ ও গুণগত মান ভালো হয়েছে। এতে পাট পরিবহনের ব্যয়ও কমেছে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হয়েছে। আগে যেখানে একজন কৃষককে ৮-১০ কিলোমিটার দূরের জলাধারে গিয়ে পাট পচাতে হতো, খাল খননের কারণে এখন অনেকেই কাছাকাছি এসব খালে কম খরচে পাট পরিবহন করে পচানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় কমেছে।

আরও